ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল ইসমাইল ঘানি ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধশক্তিগুলো একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল ইসমাইল ঘানি। তাঁর হুঁশিয়ারি, প্রতিরোধ ফ্রন্টের সক্ষমতা কেবল অস্ত্রের পাল্লা দিয়ে বিচার করলে বড় ধরনের ভুল করবে ওয়াশিংটন। এই জোটের কৌশলগত বিস্তৃতি অস্ত্রের সীমা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত সেপাহ নিউজ ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘানি বলেন, প্রতিরোধ ফ্রন্ট এখন বিভিন্ন রণাঙ্গনে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অঞ্চলভেদে তাদের অবস্থান আলাদা হলেও লক্ষ্য ও কৌশলগত ঐক্যের জায়গায় তারা একটি অভিন্ন শক্তি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতাদের বুঝতে হবে, প্রতিরোধ ফ্রন্ট এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো শক্তি নয়। বিভিন্ন রণাঙ্গনে তাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এই ফ্রন্টের সক্ষমতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রের পাল্লা বিবেচনায় নিলে চলবে না; প্রতিরোধশক্তির কৌশলগত গভীরতাও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।
ঘানির ভাষায়, বিষয়টি উপেক্ষা করলে হরমুজ প্রণালিতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র, আর অন্যদিকে প্রতিরোধশক্তির তৎপরতায় খুলে যাবে বাব আল-মান্দাব প্রণালির নতুন রণাঙ্গন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকার প্রসঙ্গও টানেন কুদস ফোর্সের এই কমান্ডার। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহুর ভুল পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি নিয়েছেন। এর মাশুল এখন যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হচ্ছে।
ঘানির দাবি, এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আড়াইশ বছরের মার্কিন ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে পরাজয়ের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থানের জবাবে কৌশলী প্রতিরোধ ফ্রন্ট বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও দেশটিকে ক্ষতির মুখে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বার্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ঘানি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ নিয়ে তার ‘জুয়াখেলার মানসিকতা’ অব্যাহত রাখে, তাহলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ফ্রন্ট পরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটিকে বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে সরাসরি রণাঙ্গনের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের কৌশলগত গভীরতাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি




