শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডিবিসি টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (৪ নভেম্বর) গভীর রাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিষয়টি।
বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট। অর্থাৎ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক সপ্তাহ পরই যাত্রাবাড়ী থানায় এ অভিযোগ নথিভুক্ত হয়।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গোয়েন্দা হেফাজতে নেওয়া হয়। একই সময় সেখান থেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকেও।
রাতের ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান রাজীব ঘোষের বিষয়ে আলাদা তথ্য দেন। তিনি জানান, মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরীর চলাচল নিয়ে এর আগেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। গত ১৫ এপ্রিল সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সেদিন সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর জেদ্দা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কী কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁকে যাত্রার অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন ইকবাল সোবহান। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।
সেই উপস্থিতির পর দীর্ঘ সময় তাঁকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। এবার যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এলেন সাবেক এই সাংবাদিক নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
মামলাটির অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কিংবা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে ডিবির পক্ষ থেকে এ পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।




