Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ২০ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে কাটল শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানায় ফিরছেন পোশাকশ্রমিকেরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

গাজীপুরে কাটল শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানায় ফিরছেন পোশাকশ্রমিকেরা

ছবি সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকেই দল বেঁধে নিজ নিজ কারখানায় ঢুকছেন পোশাকশ্রমিকেরা। পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলে সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে উত্তপ্ত ছিল গাজীপুরের পোশাকশিল্প এলাকা। সেই উত্তেজনার রেশ কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কাজে ফেরার দৃশ্য দেখা যায়।

সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ জেলার কোনো আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবরোধ, পিকেটিং কিংবা অবস্থান কর্মসূচির খবর পাওয়া যায়নি। সড়কগুলোতে যান চলাচল ও সার্বিক পরিস্থিতিও স্বাভাবিক ছিল।

শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রস্তুতিতে অবশ্য কোনো শিথিলতা নেই। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁদের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের ৫ প্লাটুন এবং এসআরবির ৮ প্লাটুন। সব মিলিয়ে ২৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে সমন্বিত টহল ও নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কিংবা সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সহিংসতার অভিজ্ঞতা। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিকেরা বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি এবং কয়েকটি কারখানার গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়।

সহিংসতা ও অস্থিরতার জেরে একাধিক পোশাক কারখানা সাময়িক ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল। ফলে কর্মস্থল থেকে দূরে থাকতে হয়েছে অনেক শ্রমিককে।

বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কারখানামুখী যাত্রা শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রশাসনের নজর পরিস্থিতির এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং নতুন করে কোনো সংঘাতের সূত্রপাত ঠেকানোর দিকে।

Walton
Walton