Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৫ ১৪৩৩, রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬

কোনপথে বাংলাদেশের যুবশক্তি?

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বনাম গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট ইনডেক্স 

মুহম্মদ র ই শামীম 

প্রকাশিত: ০০:১৩, ১ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বনাম গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট ইনডেক্স 

লেখক

বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে কয়েকটি শব্দ সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও আশা জাগানিয়া তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ (Demographic Dividend)’ বা জনমিতিক লভ্যাংশ। একবিংশ শতাব্দীতে এটি এমন এক অথনৈতিক সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে অন্যতম সৌভাগ্যবান দেশ হলো বাংলাদেশ। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার সিংহভাগই যখন কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল থাকে অর্থাৎ ১৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার অনুপাত নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর চেয়ে যখন বহুগুণ বেশি থাকে, তাকেই বলা হয় জনমিতিক লভ্যাংশ।

বাংলাদেশ বর্তমানে জনসংখ্যার এই সোনালি অধ্যায় পার করছে। তবে মানব সভ্যতার ইতিহাসে লভ্যাংশের এই সুযোগ একটি দেশের জন্য সাধারণত একবারই-ই আসে। সোনালি অধ্যায়ের দরজা সর্বোচ্চ তিন থেকে চার দশক স্থায়ী হতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই তরুণ জনগোষ্ঠী। ফলে আমাদের সামনে যেমন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশ তার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সন্ধিক্ষণ পার করছে। কিন্তু এই অসীম সম্ভাবনার তাত্ত্বিক আলোচনা যখন বৈশ্বিক বাস্তবতার আয়নায় দেখি, তখন আমাদেরকে হতাশাগ্রস্ত করে । বৈশ্বিক বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশ এই অথনৈতিক সম্ভাবনাকে কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছে তা আন্তর্জাতিক মানদন্ডে বা তথ্য উপাত্ত দেখে বলতে গেলে আমাদের সামনে এক নির্মম হতাশাজনক চিত্রই ফুটে ওঠে। 

কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের সর্বশেষ প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স’ (Global Youth Development index)-এ ১৮১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৬তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যদি তুলনা করা যায় তাহলে আমাদের নিচে অবস্থানকারী দেশ হলো কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান আর অর্থনৈতিকভাবে তীব্র সংকটে থাকা পাকিস্তান। যুবদের জন্য উন্নয়নের বৈশ্বিক এই সূচক নিঃসন্দেহে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের যুব উন্নয়ন কমসূচি কতটা পিছিয়ে আছে।

এক কথায়, আমাদের সম্ভাবনাময় যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে আমরা কতটা উদাসীন, যা শুধু সংখ্যার দিক দিয়েই বড় হিসেবে তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মানদন্ডে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসূচির মান, সমতা ও অন্তর্ভূক্তি অত্যন্ত ভঙ্গুর ও নাজুক। রাজনৈতিক ময়দানের খাতায় যুবশক্তির গুরুত্বের বড় বড় গল্প সবই যে ফাঁকা আওয়াজ ছিল, তা আন্তর্জাতিক সূচক দেখেই স্পষ্ট হয়েছে। একথা এখন সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মানবসম্পদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অংশ আমাদের যে যুবসম্পদ আছে, তাদের জন্য বাস্তবমূখী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রনীতি ও কাঠামোগত কোন সংস্কার করা হয়নি বা করতে পারে নি।

জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগের অনেক সময় ইতিমধ্যেই আমাদের অপচয় হয়ে গেছে। সামনের এক দশকের মধ্যে যদি আমরা আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দেই, তাহলে জনমিতিক লভ্যাংশ; দেশের জন্য আশীর্বাদের পরিবর্তে ভয়াবহ এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় বা ডেমোগ্রাফিক ডিজাস্টারে (Demographic Disaster) রূপ নিবে। কারণ  ২০৪০ সালের পর থেকেই বাংলাদেশের এই সোনালি অধ্যায় গ্রাফ নিম্নমুখি হতে শুরু করবে। এই জন্যই তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে যুব উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে কৌশলগত বিনিয়োগের শেষ সুযোগ হিসেবেই এখন ভাবতে হবে।

গ্লোবাল ইয়ুথ ইনডেক্স এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তবতা

বৈশ্বিক যুব উন্নয়ন (Global Youth Development index) সূচকটি সাধারণ কোনো র‌্যাংকিং এর বিষয়বস্তু নয়। এর মাধ্যমে মূলত পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের উপর ভিত্তি  করে একটি দেশের যুবদের সার্বিক সক্ষমতার মান যাচাই করা হয়।  যেমন--ক. কর্মসংস্থান ও সুযোগের অভাব এবং ঘঊঊঞ’ জনগোষ্ঠী: বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ’ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর যৌথ নীতি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে NEET’ (Not in Education, Not in Emplayment, Not in  Training)- ভুক্ত প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ ও তরুণীদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, কোনো ধরনের বৃত্তিমূলক বা কারিগরি প্রশিক্ষণ নেই বা তারা কোনো চাকরিতেও নেই।

বৈশ্বিকভাবে এই নিষ্ক্রিয় তরুণ-তরুণীদের গড় হার ২১.৭ শতাংশ, কিন্তু এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হার প্রায় দ্বি-গুণ, যা আমাদের জনমিতিক লভ্যাংশের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিপরীতধর্মী এক চিত্র। খ. দক্ষতার অমিল ও বেকারত্ব (Skills Mismatch): বর্তমানে আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সাথে তরুণ-তরুণীদের বেকারত্বের ঝুঁকি না কমে তা আরও বাড়ছে। এটিও জনমিতিক লভ্যাংশের মূল উদ্দেশ্যকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ‘ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সাময়িকীর‘ এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার শতকরা ৩৬, যা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। বিশেষ করে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ও সাধারণ ধারার, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তাদের এই শিক্ষা চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, গত এক দশকে ১ কোটি ৪০ লাখ  তরুণ-তরুণী দেশের শ্রম বাজারে  প্রবেশ করলেও প্রাতিষ্ঠানিক ও উপযুক্ত চাকরি তৈরি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ। বাকীরা হয় কম বেতনে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে, না হয় দীর্ঘ মেয়াদি বেকারত্বের অভিশাপে ভোগছে। গ. সমতা ও অন্তর্ভুক্তির অভাব ও জেন্ডার বৈষম্য : এই ক্ষেত্রে গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সের ‘সমতা ও অন্তর্ভুক্তি’ উপসূচকে বাংলাদেশ বিশে^র তলানির ১০ টি দেশের  মধ্যে একটি। এই ক্ষেত্রে অবস্থান ১৭৪ তম। ঘ. মানসিক স্বাস্থ্য ও মেধা পাচার (Brain Drain) : জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের বৈশ্বিক জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের তরুণ-তরণীরা সবচেয়ে বেশি মানসিক অবসাদ, দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগছে। 

প্রেক্ষাপট এশিয়া: সিঙ্গাপুরের সফলতা থেকে আমাদের শিক্ষনীয়

সিঙ্গাপুরের মতো দেশ বৈশ্বিক যুব উন্নয়ন ইনডেক্সে যার অবস্থান প্রথম। এই অবস্থানের অন্যতম কারণ তারা জানে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা বিশ্ববিদ্যাালয়ের সার্টিফিকেট সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ বছর পর তা পুরোনো হয়ে যায়। যুগের চাহিদার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সিঙ্গাপুর সরকার তাদের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য চালু করেছে Skills Future কর্মসূচি। এই মডেলের বৈশিষ্ট্য হলো ২৫ বছর বা এর বেশি বয়সী প্রত্যেক সিঙ্গাপুরি নাগরিকের অ্যাকাউন্টে সরকার সরাসরি পাঁচশত সিঙ্গাপুরি ডলার মূল্যের ‘ডিজিটাল স্কিল ক্রেডিট‘ প্রদান করে থাকে। তাদের নাগরিকরা এই টাকা (ক্রেডিট) সরকার অনুমোদিত হাজার হাজার বিশ্বমানের কোর্সের (যেমন এআই, ডাটা সায়েন্স) যে কোনোটি ফ্রি-তে করতে পারে। এছাড়া ৪০ থেকে ৬০ বছর  বয়সীদের জন্য আরও বেশি অর্থাৎ এক হাজার থেকে চার হাজার ডলারের বেশি বিশেষ ক্রেডিট দেওয়া হয়। ফলে মাঝ বয়সেও তারা ক্যারিয়ার পরিবর্তন বা নতুন প্রযুক্তি শিখতে পারেন। এর সঙ্গে তাদের জন্য রযেছে Skills  Future Work study প্রোগ্রাম। এর মাধ্যমে পলিটেকনিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানিতে হাতে কলমে কাজ শিখতে ইন্টারর্নিশিপ করার সুযোগ পায়। ফলশ্রুতিতে ডিগ্রি শেষ হওয়ার আগেই তারা বাস্তব কাজে বাজারের উপযোগী দক্ষ হয়ে উঠে। 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য 

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের তরুণ যুব সমাজ-ই মুখ্য ভুমিকা পালন করেছে। অর্থাৎ গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে যুব সমাজের আশা-আকাঙ্খা পূরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্যতম প্রধান নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। তাই সরকারও ইতিমধ্যেই জাতীয় যুবনীতি- ২০২৬ হালনাগাদ করা এবং এমপ্লয়মেন্ট একচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এইসব নীতি ও সিদ্ধান্তগুলোকে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে হলে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী মূল প্রতিষ্ঠান ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের‘ সনাতন বা পুরোনো আমলের প্রশিক্ষণ কর্মসুচি-কে ঢেলে সাজাতে হবে । বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কর্মসুচি চালু করতে হবে। জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ যুবসমাজ-কে দেশের প্রধান সম্পদ বিবেচনায় নিয়ে সিঙ্গাপুরের সফল অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর-কে দেশের মূল ‘হিউম্যান রিসোর্ট ডেভেলপমেন্ট হাব’ হিসেবে আধুনিকায়ন করতে হবে।

এজন্য যে কাজগুলো জরুরিভাবে করা  দরকার তা হলো-
ক. ডিজিটাল ইয়ুথ স্কিল ক্রেডিট প্রবর্তন করা খ. জেলা-উপজেলায় স্মার্ট স্কিল হাব প্রতিষ্ঠা করা গ. ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের শিক্ষানবিস প্রণোদনা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর-শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারিত্ব কর্মসূচি গ্রহণ করা ঘ. জামানতবিহীন ‘স্টার্টআপ ফান্ড‘ ও ঋণের শতভাগ ডিজিটালাইজেশন  ঙ. বাজেট বরাদ্দ বা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।

মেধার মূল্যায়ন ও টেকসই ভবিষ্যতে বিনিয়োগের শেষ সুযোগ

গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স বাংলাদেশের ১২৬তম স্থান আমাদের জন্য কোনো স্থায়ী ভাগ্যলিখন নয়। প্রকৃতপক্ষে এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে, বিগত এক দশকের অধিক সময় ধরে যুবখাত-কে অবহেলা, ভুলনীতি, যুব উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের অভাব, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না দেওয়া এবং দেশের প্রধান সস্পদ হিসেবে যুব সম্পদকে গুরুত্বের চোখে না দেখা ইত্যাদি। এই নির্মম খতিয়ানের বহি:প্রকাশ-ই আমাদের ১২৬তম অবস্থানে নিয়ে গেছে। অথচ আমাদের দেশের এই যুব সম্পদ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় মেধাবী, কঠোর পরিশ্রমী ও প্রতিকূল পরিবেশ খাপ-খাইয়ে নেওয়ার মতো সক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। রাষ্ট্রীয় সুযোগ ও সঠিক পরিবেশ পেলে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বা  ফ্রি-ল্যান্সিং বাজার থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠান সমূহেও নিজেদের শ্রেষ্টত্ব প্রমাণ করে দেশের অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, এখন যুবসম্পদকে বৈশি^ক দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সুবর্ণ সুযোগটিও শেষ হতে চলেছে। এখনই সময় এখাতে বিনিয়োগ করা এবং বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন করা। কারণ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হলে প্রচলিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। কারণ দেশের শিক্ষিত যুবদের জন্য আগামী ৫ বছরে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার রয়েছে। এ জন্য সিঙ্গাপুরের Skills Future এর আদলে এবং যুব উন্নয়ন খাতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়েই কেবল শেষ সুযোগটি সফলভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, যুবদের জন্য বিনিযোগ কোন দয়া বা দাক্ষিণ্যের বিষয় নয়, এটি আমাদের আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল বিনিয়োগ। একটি উন্নত, বৈষম্যহীন, অর্থনৈতিক টেকসই ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়তে হলে আবশ্যিকভাবেই আমাদের যুব সম্পদকে-ই কাজে লাগাতে হবে। কারণ- ২০২৪ সালের  গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা-ই ছিল যুব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বৈষম্য দূর করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।

 লেখক: উপপরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ; কলাম লেখক এবং পিআইডি ফিচার/পিআইডি-ইউনিসেফ ফিচার লেখক। 

Walton
Walton