ইরানের উপ-জ্বালানিমন্ত্রী ও ন্যাশনাল পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির (এনপিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওমিদ শাকেরি
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-জ্বালানিমন্ত্রী ও ন্যাশনাল পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির (এনপিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওমিদ শাকেরি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সগুলো পুনর্নির্মাণ এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে এটি দেশের সার্বভৌম স্বার্থের বিষয়।
পেট্রোকেমিক্যাল খাতের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তেজারাত ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে শাকেরি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ এবং মাঝপথে থেমে যাওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হয়েছে।
আগামী দুই মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আবার উৎপাদনে ফেরানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, দেশটির অর্থনীতি দুর্বল করে দেওয়া এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই জ্বালানি, শিল্প ও পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। শিল্প খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার স্থানীয়করণ এবং বিকল্প বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন সংকট নিরসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শাকেরি বলেন, এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করে উৎপাদনে নেওয়া জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। বহিরাগত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হওয়া জাতীয় অর্থনীতি ও দেশের মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা নিয়ে আসবে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হবে, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম পূর্ণ শক্তিতে এগিয়ে চলেছে।’
তেজারাত ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় যেসব সমঝোতা হয়েছে, তাতে অর্থায়নসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন শাকেরি। তাঁর প্রত্যাশা, এসব প্রকল্প চালু হলে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল খাতের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।




