Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৭ ১৪৩৩, সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল মিরপুর-গাজীপুর, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৫, ২ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল মিরপুর-গাজীপুর, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

ছবি সংগৃহীত

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। কোথাও সড়কে নামার চেষ্টা করা শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ, কোথাও মহাসড়ক অবরোধ করে ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই এলাকাতেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কারখানার ভেতরে ফিরে যান।

একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকাতেও শ্রমিকদের আরেকটি দল জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের তৎপরতায় তাদের সেই উদ্যোগও সফল হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে মিরপুর মডেল থানা।

থানার ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন জানান, সকাল থেকেই পুলিশের সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

মিরপুরে শ্রমিক অসন্তোষের শুরু গত শনিবার (৩১ অক্টোবর)। প্রথমে বিভিন্ন পোশাক কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চললেও রোববার তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। সড়ক অবরোধের পাশাপাশি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

গত দুই দিনের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে পুরো মিরপুরে। মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মিরপুরের পাশাপাশি গাজীপুরেও সোমবার সকাল থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেমে অবরোধ শুরু করেন।

এ সময় অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালানো হয়। বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আটকে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা। আশপাশের আবাসিক এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির কারণে মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও হরিণঘাটি এলাকার বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

অবরোধ সরাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরাও বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করেন বলে জানা গেছে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিকে কেন্দ্র করে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনে পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ দুই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা, সহিংসতা ঠেকানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Walton
Walton