Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৭ ১৪৩৩, সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, মঙ্গলবার আঘাত হানতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০২, ২ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:০৩, ২ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, মঙ্গলবার আঘাত হানতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশে

ছবি সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছাতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

সোমবার ২ নভেম্বর  ভোরে পশ্চিম-মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, উপকূলে পৌঁছানোর আগে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে।

ঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় তামিলনাড়ুর চেন্নাই ও তিরুভাল্লুর জেলার সব স্কুল-কলেজ সোমবার বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি তেলেঙ্গানার ছয়টি জেলায় কমলা সতর্কতা এবং পাঁচটি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুরমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এ সময় প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) দলও রাজ্যটির উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে বিশাখাপত্তনমগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমান চলাচলের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তামিলনাড়ুতেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। চেন্নাইসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তিরুভাল্লুরে সোমবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। আগামী মঙ্গলবারও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ ওডিশার জন্যও বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যটির একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছিলেন, নভেম্বর মাসে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত এবং বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর ছিল ১৯০১ সালের পর ভারতের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার হিসাবে সবচেয়ে উষ্ণ অক্টোবর।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরাসু’ দিয়েছে ভারত। তামিল ভাষায় শব্দটির অর্থ ‘ঢোল’ বা ‘বাদ্যযন্ত্র’। অন্ধ্রপ্রদেশে কয়েক দিন আগেই ঘূর্ণিঝড় ‘আরনাব’-এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এর মধ্যেই নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর ও হিন্দুস্তান টাইমস

Walton
Walton