Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৭ ১৪৩৩, সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় তৃতীয় দিনের আলোচনা

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ২ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

ইরান যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় তৃতীয় দিনের আলোচনা

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি (বাঁয়ে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে। এ লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা করেছেন ইরানের প্রতিনিধিরা। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ তৈরি করা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দুই দিনের মধ্যে খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের নির্ধারিত শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। ওয়াশিংটন শর্তগুলো মেনে নিলে দ্বিতীয় দিন থেকে প্রণালিটিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

আরাঘচির ভাষ্য, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আগে সাত দিনের একটি প্রস্তাবের সময়সীমা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। ধারাবাহিক আলোচনার পর সেটি দুই দিনে নামিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতাকে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। 

এদিকে, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও কাটেনি। আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন-এমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। তবে ইরানকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন, তা না হলে দেশটিকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে।

শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা শুরুর জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প আপাতত কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি দেখতে চান। 

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীকে যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনায় প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা না রাখার কথাও বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি-দুই পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। হরমুজ প্রণালি নিয়ে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হবে কি না, সেটিই এখন কূটনৈতিক আলোচনার বড় পরীক্ষা।
সূত্র: আল জাজিরা 

Walton
Walton