Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৬ ১৪৩৩, রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬

জুলফাকারি অভিযানের ইতিহাস স্মরণ করলেন মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৮, ১ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১০:১০, ১ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

জুলফাকারি অভিযানের ইতিহাস স্মরণ করলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি

ইরানের আবাদান দ্বীপ থেকে ইরাকি বাথিস্ট আগ্রাসী বাহিনীকে বিতাড়িত করার ঐতিহাসিক জুলফাকারি অভিযানের বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চলা ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরানের বিজয়ের পেছনে জনগণের ভূমিকা ও প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

খামেনি বলেন, জনগণের সতর্কতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐশী প্রেরণা, স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং দৃঢ় মনোবল ছিল সশস্ত্র আগ্রাসী বাহিনীকে মোকাবিলা করে বিজয় অর্জনের প্রধান শক্তি। পাশাপাশি ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) যোদ্ধাদের বীরত্বও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বার্তায় তিনি বলেন, ৯ আবান (৩১ অক্টোবর) ইরানের ইতিহাসে জনগণের অংশগ্রহণে সংঘটিত এক বীরত্বপূর্ণ অভিযানের বার্ষিকী। ১৯৮০ সালে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শুরুর মাত্র ৪০ দিনের মাথায় ইসলামি যোদ্ধারা এই অভিযান পরিচালনা করে আবাদান দ্বীপ থেকে বাথিস্ট আগ্রাসীদের বিতাড়িত করেন।

আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের সময় এটিকে ইরানি জাতির প্রথম বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অভিযানটি ‘অপারেশন জুলফাকারি’ নামে পরিচিতি পায়। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ইরানের ইতিহাসে তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খামেনির মতে, প্রতিটি যুগেই ইসলামি মাতৃভূমির বিরুদ্ধে শত্রুদের আগ্রাসন ও দখলদারির চেষ্টা মোকাবিলায় এই অভিযানের অনেক শিক্ষা রয়েছে।

দুই দেশের জনগণের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করতে পারেনি আগ্রাসন
বার্তায় ইরাকের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে খামেনি বলেন, সে সময় ইরাকের ক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসক দেশটির জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতেন না।

ইরান ও ইরাকের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা দুই দেশের মানুষের মধ্যে গভীর বন্ধন তৈরি করেছে। অথচ কিছু স্লোগান ও ভিত্তিহীন দাবির মাধ্যমে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্ভব বলে মনে করেছিলেন ইরাকের তৎকালীন শাসক।

খামেনি বলেন, বর্তমান সময়ের শত্রুদের মতো সে সময়ের বাথিস্ট বাহিনীও আগ্রাসন, দখলদারি ও অবরোধের পথ বেছে নিয়েছিল। তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণের সতর্কতা, আত্মত্যাগী বাহিনীর নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির যোদ্ধাদের বীরত্বই ছিল প্রধান শক্তি।

সাধারণ শ্রমিকের সতর্কতায় প্রতিরোধের সূচনা
জুলফাকারি অভিযানের সূচনাপর্বের কথা তুলে ধরে খামেনি বলেন, সে সময় ইরানের একজন সাধারণ শ্রমিক নিজের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে শত্রুর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করেছিলেন।

এরপর স্থানীয় মসজিদের সদস্য এবং সাধারণ মানুষের একটি দল সীমিত অস্ত্র ও সরঞ্জাম নিয়েই প্রতিরোধে যোগ দেন। তাঁদের প্রেরণা ছিল ধর্মীয় বিশ্বাস ও আল্লাহর প্রতি আস্থা।

আবাদানের তৎকালীন জুমার নামাজের ইমাম প্রয়াত আয়াতুল্লাহ জামির নেতৃত্বে এই প্রতিরোধ সংগঠিত হয়। খামেনি তাঁকে একজন জ্ঞানী, সাহসী ও আত্মত্যাগী আলেম হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের এই প্রতিরোধের মুখে উন্নত অস্ত্রে সজ্জিত আগ্রাসী বাহিনীও তাদের অভিযানের পরিণতি নিয়ে অনুতপ্ত হতে বাধ্য হয়।

এরপর ইরানের উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম-বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দেশের সীমান্ত ও ভূখণ্ড রক্ষায় একত্রিত হন। আল্লাহর রহমত এবং ইমাম খোমেনির নির্দেশনায় এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবাদানের অবরোধ ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই চেতনার ওপর গুরুত্বারোপ
ঐতিহাসিক জুলফাকারি অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি বলেন, সে সময়ের মতো আজও ইরানের জনগণের সতর্কতা, বিশ্বাস, আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দৃঢ় সংকল্প দেশটিকে শক্তি জোগাচ্ছে।

তাঁর বক্তব্য, সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং ইমাম মাহদির (আ.) বিশেষ অনুগ্রহে নিপীড়িত হলেও শক্তিশালী ইরানি জাতি বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই চেতনা ও ঐক্যই ইরানের জনগণকে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদ, অপরাধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধেও বিজয় অর্জনের শক্তি জোগাবে।

বার্তার শেষাংশে পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ১২৬ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন খামেনি।

আয়াতটির অর্থ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিজয় কেবল পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।’

Walton
Walton