Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৭ ১৪৩৩, সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সে বিক্ষোভে পুলিশের ধরপাকড়, জার্মানিতে ব্যাপক ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৮, ২ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:০৫, ২ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

ফ্রান্সে বিক্ষোভে পুলিশের ধরপাকড়, জার্মানিতে ব্যাপক ভাঙচুর

প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা পদযাত্রা করছেন। ছবি সংগৃহীত

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিক্ষা ও আবাসন সংকটের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগালে লাখো মানুষ রাস্তায় নামেন। অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সে আগের সপ্তাহগুলোর তুলনায় সহিংসতা কমেছে। তবে জার্মানির কয়েকটি শহরে বিক্ষোভের পর রাতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। দেশটির সরকারের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ। রাজধানী প্যারিসে দিনের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শহরের পূর্বাঞ্চলে বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে একদল লোক পুলিশের দিকে পেট্রলবোমা ছোড়ে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, আইফেল টাওয়ারের বিপরীত দিকের একটি পর্যটন এলাকায় মুখোশধারীরা পুলিশের দিকে আতশবাজি ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক দফা অভিযান চালায়। আতঙ্কিত পর্যটকেরা ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

তবে গত ১৭ অক্টোবরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেদিন ভয়াবহ সহিংসতায় একটি সিটি হল পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং দুই হাজারের বেশি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছিল। শনিবারের বিক্ষোভে ফ্রান্সজুড়ে ৭৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগের দুই সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৬২৮ ও ১ হাজার ৩১৪। দেশজুড়ে নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিলেন প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য।

সোমবার শরৎকালীন ছুটি শেষে স্কুল খুলছে। শিক্ষার্থীদের কয়েকটি সংগঠন নতুন করে অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটিতে রেল ও সরকারি পরিষেবায় সাধারণ ধর্মঘটের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের প্রস্তুতিও চলছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে মজুরি বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো।

জার্মানিতে পুলিশের ওপর হামলা, দোকানে লুটপাট
ফ্রান্সের পাশাপাশি জার্মানিতেও বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়েছে। শনিবার দেশজুড়ে এক লাখের বেশি তরুণ শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, আবাসন সংকট মোকাবিলা, জলবায়ু সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে রাস্তায় নামেন।

ফ্রাঙ্কফুর্টে দিনের কর্মসূচি শেষে রাতে একদল দাঙ্গাকারী পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং বিভিন্ন দোকানে লুটপাট করে। এতে শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। ১৩ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটিতে লুটপাট চালানো হয়।

হেসে রাজ্যের গভর্নর বরিস রাইন এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্রাঙ্কফুর্টে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

কোলোনেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। বার্লিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বোতল ও আতশবাজি ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে, জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডব্রিন্টের অভিযোগ, বামপন্থী সহিংস গোষ্ঠী ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের কিছু বিশৃঙ্খলাকারী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে বিক্ষোভের আয়োজক তরুণদের সংগঠন ‘জেন জেড রেগেল্ট’ সহিংসতার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, কোনো ধরনের সহিংসতাকে তারা সমর্থন করে না।

আবাসন সংকটের প্রতিবাদে পর্তুগালেও বিক্ষোভ
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও আবাসন ব্যয় কমানোর দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। দিনের কর্মসূচি শেষে কয়েক শ মানুষ শহরের ঐতিহাসিক রোসিও চত্বরে তাঁবু টানিয়ে অবস্থান নেন।

রোববার ভোরে দাঙ্গা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁবু সরিয়ে দেয় এবং বিক্ষোভকারীদের চত্বর থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন চলছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের এই আন্দোলনে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। ফ্রান্সে স্কুল খোলার পর নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কা এবং জার্মানিতে সহিংসতার ঘটনায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো।


 

Walton
Walton