Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৬ ১৪৩৩, সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক অসন্তোষে একযোগে বন্ধ ৫ শতাধিক কারখানা

প্রকাশিত: ০০:১৭, ২ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

শ্রমিক অসন্তোষে একযোগে বন্ধ ৫ শতাধিক কারখানা

শ্রমিক অসন্তোষে একযোগে বন্ধ ৫ শতাধিক কারখানা

দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৫২৯টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। এসব কারখানার প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দেননি। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। রাজধানীর ডিএমপি এলাকার মিরপুরেও শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১ নভেম্বর) বিকাল পর্যন্ত পাওয়া এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫২৯টি কারখানার মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় ২৭৬টি, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় ১৮৫টি এবং ডিএমপি এলাকায় ৬৮টি কারখানা রয়েছে। ডিএমপি এলাকার বন্ধ কারখানাগুলো মিরপুরে অবস্থিত।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম এলাকায় শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনও ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি।

এলাকাভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে মোট ৮৩৬টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৬টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। এসব কারখানায় কাজে যোগ দেননি ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।
সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় মোট কারখানা রয়েছে ৪৪১টি। এর মধ্যে ১৮৫টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। এ অঞ্চলে কাজে যোগ দেননি ২ লাখ ৯০ হাজার ২০৫ জন শ্রমিক।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৮টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে গেছেন। এসব কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ৫১ হাজার ৬২৫ জন কাজে যোগ দেননি। বন্ধ কারখানাগুলো মিরপুর এলাকায় অবস্থিত।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জে ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামে ৩৪০টি কারখানার তথ্য রয়েছে। এসব এলাকায় শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়া কিংবা কাজে যোগ না দেওয়ার কোনো ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি।

পরিসংখ্যানে পাঁচটি শিল্পাঞ্চল মিলিয়ে মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা খোলা থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ কারখানার সংখ্যা ৫২৯টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজে যোগ না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে। এরপর রয়েছে সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকা। এই দুই অঞ্চলের পরিস্থিতিই শ্রমিক অসন্তোষের সামগ্রিক চিত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়া এবং কাজে যোগ না দেওয়ার ঘটনায় উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার ও আশুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজে অনুপস্থিত থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
 

Walton
Walton