ছবি সংগৃহীত
সাত মাস অপেক্ষার পর অবশেষে নিজের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান।
কারাবন্দিদের আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অধিকার আইন স্বীকৃত। কিন্তু ইমরান খানের ক্ষেত্রে সেই আইনি বিধান অধিকাংশ সময়ই উপেক্ষিত হয়েছে-এটাই দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা।
পিটিআই জানিয়েছে, আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সাফদার কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুধু আইনি বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছেন। সংক্ষিপ্ত ওই বৈঠকে কোনো রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তোলা হয়নি। এ সময় ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিও উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো যায়। তবে সরকার যেন এমনটি মনে না করে যে ইমরান খানকে এই সুযোগ দিয়ে তারা বিশেষ কোনো অনুগ্রহ করেছে। কারাগারে থাকা একজন ব্যক্তিকে আইন অনুযায়ী যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে, ইমরান খানকেও সেগুলো নিশ্চিত করতে হবে।
গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশের পর বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। আদালত তখন ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার এবং তাঁর পছন্দের চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের অধিকারও বহাল রেখেছিলেন আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘একজন বন্দি কারাগারে যাওয়ার পর মানবিক আচরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার হারান না।’
কিন্তু আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে সরকারকে বেশ বেছে বেছে পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুযোগও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সীমিত রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গত সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের বোনদেরও জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইনে (মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার-এমপিও) আটক করা হয়েছিল। তাঁরাও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়েছেন।
ইমরান খান, তাঁর পরিবারের সদস্য কিংবা কারাগারে থাকা অন্য রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী-কারও ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের উচিত নয় আইনস্বীকৃত অধিকার কেড়ে নেওয়া। পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পছন্দের আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তাঁদের প্রত্যেকের প্রাপ্য।
শাসকদের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি ন্যূনতম মানবিক আচরণও নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া পিটিআইকেও সংঘাতমুখী বক্তব্য ও অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি। এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করার পথও তৈরি হতে পারে।
পাকিস্তানের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সরকার ও বিরোধী-উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধের কারণে কারও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার সুযোগ নেই।




