ছবি সংগৃহীত
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০৮টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় হুথিদের প্রায় ৩৭০ জন মাঠপর্যায়ের কমান্ডার ও যোদ্ধা নিহত বা যুদ্ধের অযোগ্য হয়েছেন। ধ্বংস কিংবা অকার্যকর করা হয়েছে প্রায় ১২০টি সামরিক যান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, হুথিদের সমাবেশস্থল, যোদ্ধাদের চলাচল, রসদ ও অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বহর, সুরক্ষিত অবস্থান, গোলাবর্ষণের ঘাঁটি এবং সামরিক যানবাহন ছিল এসব অভিযানের লক্ষ্য।
হামলায় যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন), স্থলভিত্তিক কামান ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাইজ প্রদেশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সরকারি বাহিনী ও পপুলার রেজিস্ট্যান্স কয়েকটি অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। হুথিরা সেসব অবস্থান পুনর্দখলের চেষ্টা চালালে তা প্রতিহত করা হয়। একই সময়ে বিমান হামলায় বিদ্রোহীদের সমাবেশস্থল ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেন সামরিক মুখপাত্র।
জওফ ও মারিবের পাশাপাশি ইয়েমেনের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রণাঙ্গনেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, এসব এলাকায় হুথিদের অবস্থান ও চলাচলের ওপর হামলার পাশাপাশি সরাসরি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিদ্রোহীদের কাছ থেকে আরও কিছু অবস্থান পুনর্দখল করা সম্ভব হয়েছে। হুথিদের জনবল ও সামরিক সরঞ্জামেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হুথিদের সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকির অবসান ঘটানোই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
বেসামরিক মানুষের জীবন ও জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি। বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
তবে ১ হাজার ২০৮টি হামলা, ৩৭০ জন যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করা এবং ১২০টি সামরিক যান বা সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবির বিষয়ে স্বাধীন কোনো যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: আরব নিউজ




