Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৮ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের চরম হুঁশিয়ারি: আগুন জ্বলবে সীমানার বাইরেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৪, ৩ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১২:২৬, ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

ইরানের চরম হুঁশিয়ারি: আগুন জ্বলবে সীমানার বাইরেও

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।ছবি সংগৃহীত

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক হামলা চালালে তার জবাব শুধু পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে এ অঞ্চলের বাইরেও। এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।

সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আগের ৪০ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

আকরামিনিয়া জানান, ইরান নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করেছে। প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণ চালানোর সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

প্রচলিত শক্তির ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার দাবি
ইরানের সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন, প্রতিপক্ষের তুলনায় সামরিক সরঞ্জামের সক্ষমতায় যে ব্যবধান রয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী অসম ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল কাজে লাগিয়েছে।

তাঁর দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত উদ্ভাবন, পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত পদক্ষেপ এবং প্রচলিত যুদ্ধের বাইরে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি হুমকির জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা না রাখার যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটিও তুলে ধরেন আকরামিনিয়া।

তিনি বলেন, আগের যুদ্ধের বিস্তৃতি ছিল অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা হলে এবার যুদ্ধের পরিধি পশ্চিম এশিয়ার সীমানাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যেখানেই মার্কিন স্বার্থ, সেখানেই হামলার হুমকি
আকরামিনিয়া জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের নির্দেশনা অনুযায়ী শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে মার্কিন স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে। এসব লক্ষ্যবস্তু বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর নাগালের মধ্যে এলে সেগুলো আক্রমণের আওতায় আসতে পারে।

অর্থাৎ, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব নির্দিষ্ট কোনো যুদ্ধক্ষেত্র বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আগের যুদ্ধের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে সংঘাত
নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের ৪০ দিনের সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন আকরামিনিয়া।

তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ কত দিন চলবে কিংবা কোন শর্তে তার অবসান ঘটবে, তা এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করতে পারবেন না। সংঘাতের পরিণতি নির্ধারণে ইরানেরও বড় ভূমিকা থাকবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এবং ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্রদের বুঝতে হবে, এ ধরনের সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর নির্দেশ খামেনির
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির সঙ্গে দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের বৈঠকের পর এসব বক্তব্য সামনে এল।

ওই বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা সামরিক বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন। সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

খামেনি সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক ও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমারেখাকে বাধা হিসেবে বিবেচনা না করার কথাও বলেছেন তিনি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পদকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার আওতায় আনতে লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার পূর্ণাঙ্গভাবে হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তেহরানের সাম্প্রতিক এসব বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তার জবাব শুধু আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমিত রাখার কথা ভাবছে না ইরান। বরং সম্ভাব্য যুদ্ধের বিস্তৃতি, স্থায়িত্ব ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বিস্তৃত অবস্থানের কথা জানাচ্ছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।
সূত্র: তাসনিম নিউজ

Walton
Walton