আইআরজিসি-র জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, তাদের অ্যারোস্পেস ডিভিশনের পরিচালিত উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আরও দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোনকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন ড্রোনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযানের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণ আকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পূর্ব আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫তম এমকিউ-৯ ড্রোন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ। বিবৃতিটি প্রকাশিত হয় সোমবার রাতে।
আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ডিভিশনের অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোন দুটি অকার্যকর করে মাটিতে নামানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরানের বাহিনীর হাতে আটক মার্কিন এমকিউএম-১৭০ ড্রোনের সংখ্যা বেড়ে চারটিতে দাঁড়িয়েছে।
বাহিনীটির দাবি, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তির এমকিউ-৯ ড্রোনটি শনাক্ত করার পর অনুসরণ করে ধ্বংস করা হয়। এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের নতুন একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে। ব্যবস্থাটি ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে কাজ করছে।
মার্কিন সামরিক নেতৃত্বকে কটাক্ষ
আইআরজিসির বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন অভিযান নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আগ্রাসী মার্কিন শত্রু আবারও এ ধরনের ড্রোন মোতায়েন করেও তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। মহান আল্লাহর কৃপায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সন্ত্রাসী কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের ব্যর্থতার কালো তালিকায় আরও একটি অধ্যায় যুক্ত হলো।’
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, এর আগে তাদের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি এমকিউ-১ ড্রোনও আটক করেছেন।
হরমুজে বাড়ছে ড্রোন ঘিরে সংঘাত
ইরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চল এবং কেশম দ্বীপের আকাশ থেকে আরও কয়েকটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন উদ্ধার করেছে আইআরজিসির নৌ ও অ্যারোস্পেস ইউনিট।
মার্কিন প্রতিষ্ঠান গ্রিফন অ্যারোস্পেসের তৈরি এমকিউএম-১৭০ মূলত আকাশে লক্ষ্যবস্তু ও শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করার ডিকয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের কাজেও এসব ড্রোন ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ও এমকিউ-১ ধরনের কয়েক ডজন ড্রোন ধ্বংস কিংবা আটক করেছে বলে তেহরানের দাবি।
ইরানের ভাষ্য, ধারাবাহিক এসব অভিযানে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোনের নজরদারি এবং সম্ভাব্য হামলা পরিচালনার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল চালকবিহীন বিমানও যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার আওতায় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, এসব ঘটনা তার প্রমাণ।
আইআরজিসির দাবি, প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি নিজস্ব ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ও বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের চালকবিহীন বিমান মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়িয়েছে ইরান।
তবে ড্রোন আটক ও ধ্বংসের এসব দাবি এবং এর ফলে মার্কিন সামরিক নজরদারিতে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।




