Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৯ ১৪৩৩, বুধবার ০৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য, হরমুজ প্রণালি খুলবে না ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১২, ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য, হরমুজ প্রণালি খুলবে না ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি

ওয়াশিংটনের সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জবাবকে ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। তাঁর সাফ কথা, ইরানের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না।

চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেজায়ি বলেন, ইরানের অধিকার ও দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব সন্তোষজনক হয়নি। ওয়াশিংটনকে ইরানের সাতটি শর্তের প্রতিটির বিষয়ে স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ জবাব দিতে হবে। শুধু বক্তব্য দিলেই চলবে না, শর্তগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপও নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাতটি শর্ত সম্পূর্ণ ও স্পষ্টভাবে মেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। কেবল তখনই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।’

ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন রেজায়ি এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। কয়েক দিন আগেই ইরান নিশ্চিত করে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তারা পর্যালোচনা করেছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় চিঠিটি রেজায়ির কাছে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরাসরি আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভ্যান্স। আলোচনার শুরুতেই ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচ্যসূচিতে রাখার প্রস্তাবও ছিল ওই বার্তায়। তবে এ দাবি তেহরান আগেও একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সপ্তাহে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হতে যাচ্ছে-এমন সংবাদমাধ্যমের জল্পনাকে তিনি নিছক অনুমান বলে উড়িয়ে দেন।

আরাঘচির বক্তব্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের নিজস্ব প্রস্তাবই এখন আলোচনার টেবিলে থাকা একমাত্র কার্যকর পরিকল্পনা। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীরা এখনো বিভিন্ন প্রস্তাব আদান-প্রদান করছেন বলেও জানান তিনি।

তেহরানের অনড় অবস্থানের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। কাতার মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী কোনো সমঝোতা হওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই পক্ষই আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। আমরা যে ধারণা ও প্রস্তাব দিয়েছি, সেগুলো তারা পর্যালোচনা করছে।’

দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখন বেশ জোরেশোরে চলছে বলেও জানান তিনি। তবে নতুন করে উত্তেজনা বা সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন কাতারের এই কর্মকর্তা।

এদিকে ওয়াশিংটনের বক্তব্যেও একধরনের অসংগতি দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ভ্যান্সের পাঠানো চিঠির কূটনৈতিক তাৎপর্য খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, চিঠিটির উদ্দেশ্য ছিল ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো, আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া নয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ঘিরে সামরিক হুমকি ও চাপ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে এবং ইসরায়েলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

তেহরান অবশ্য বারবার জানিয়ে আসছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।

সম্প্রতি আরাঘচি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, অস্ত্রভান্ডারের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন অস্ত্রের পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

Walton
Walton