ছবি সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, ইরানে আবারও হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইরানের আরও অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পায়নি সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টার পরিচালনার প্রস্তুতির দৃশ্যও সামনে এসেছে। সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের তৎপরতা বাড়ার মধ্যে নতুন হামলার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি পরমাণু প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে তেহরানের শর্ত, ওয়াশিংটনকে আগে তাদের সাতটি দাবি মেনে নিতে হবে। এরপরই কেবল প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা সম্ভব। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বৈঠকে রেজায়ি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন। তবে ওই বার্তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার জোটের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করে ধ্বংস করে বলে জানানো হয়েছে। জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
এদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়ার সহযোগিতার খবরও সামনে এসেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য ইরানকে হেলিকপ্টারে সংযুক্ত করা যায়-এমন ৯০টি লঞ্চার সরবরাহে সম্মত হয়েছে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনী এ ধরনের অস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।
ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ, তেহরানের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং মস্কোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা-সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হবে কি না।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল




