ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ছবি সংগৃহীত
প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) টেলিফোনে দুই নেতার মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও আল-জাইদির আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের সম্ভাব্য করণীয় উঠে আসে।
আল-জাইদি বলেন, প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কোনো প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালানোর ঘাঁটি হিসেবে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সৌদি আরবসহ ইরাকের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের দাবি, তেহরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকের ভেতর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। এসব হামলার কয়েকটি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অবকাঠামো এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আল-জাইদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কূটনৈতিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সংঘাত যাতে অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই নেতার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। আট মাসেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন হামলার সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাবও সামনে এনেছে বাগদাদ। গত মাসে ইরাক সরকার জানায়, সংঘাতের কারণে দেশটির আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এর বড় অংশই এসেছে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার কারণে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিজ ভূখণ্ডকে আঞ্চলিক সংঘাতের মঞ্চ হতে না দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে তেহরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে বাগদাদ কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: আরব নিউজ




