প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ছবি সংগৃহীত
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা আগামী রোববার ঘোষণা করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। গত সপ্তাহের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় হারজগ জানান, আগামী রোববার নেসেটের একজন সদস্যকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছেন ৪৬ জন সংসদ সদস্য। অন্যদিকে আইজেনকটের পক্ষে রয়েছেন ৬৭ জন। ভোটদানে বিরত ছিলেন সাতজন।
ইসরায়েলের বৃহত্তম আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট বৃহস্পতিবার আইজেনকটের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। গত সপ্তাহের নির্বাচনে ১১টি আসন পাওয়া এই জোট প্রেসিডেন্টের কাছে আইজেনকটকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করবে বলে জানিয়েছে।
এর আগে আটটি আসন পাওয়া ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা'আমও তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। ফলে আরব নেতৃত্বাধীন দুই দলের সমর্থন আইজেনকটের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
গত নির্বাচনে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক তালিকাগুলো ১২০ আসনের নেসেটে মোট ১৯টি আসন পেয়েছে, যা দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন। নতুন সরকার গঠনে তাদের সমর্থন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের সুপারিশ পাওয়ায় নেতানিয়াহুর আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু সরকারের প্রত্যাবর্তন ঠেকানো এবং সরকার পরিবর্তনের জনদাবিকে সামনে রেখেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আরব নাগরিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিগুলোর বিরুদ্ধে বিরোধী জোট যথেষ্ট শক্ত অবস্থান নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং উগ্র ডানপন্থী ও অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি এবং তাঁর জোটের আরও তিনটি ইহুদি বিরোধী দল পেয়েছে ৪৮টি আসন। কোনো জোটই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
বুধবার থেকে নতুন সংসদীয় দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। তিনি দলীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, নতুন নির্বাচন এড়াতে চাইলে সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না-এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
এদিকে নির্বাচনের আগে বিদেশি অর্থ নিয়ে এক আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় আরব রাজনৈতিক জোটটি রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছে। নেতানিয়াহুও নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, কয়েকটি বিদেশি রাষ্ট্র ইসরায়েলের নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে।
রোববার হারজগের ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে, ইসরায়েলে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আইজেনকট নাকি নেতানিয়াহুর হাতে যাচ্ছে।




