Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ২২ ১৪৩৩, শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬

আইআরজিসির স্থাপনা থেকে দূরে থাকতে মার্কিন সামরিক সতর্কতা

প্রকাশিত: ১২:৩১, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১২:৩২, ৭ নভেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

আইআরজিসির স্থাপনা থেকে দূরে থাকতে মার্কিন সামরিক সতর্কতা

ছবি সংগৃহীত

ইরানে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে সাধারণ নাগরিকদের ঘরে অবস্থান এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এ সতর্কবার্তা দেন। তাঁর অভিযোগ, আইআরজিসি আবাসিক এলাকায় অস্ত্র ও সামরিক কমান্ড সেন্টার স্থাপন করছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। আইআরজিসি আবাসিক এলাকায় এবং মানুষের বাড়িঘরের কাছাকাছি অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও কমান্ড সেন্টার স্থাপন করেছে।

ইরানের নেতৃত্ব ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।

মার্কিন ওই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয় না। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, দেশটির নেতারা ও আইআরজিসি সদস্যরা সুরক্ষিত স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন, অন্যদিকে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে সামরিক স্থাপনার আশপাশে ঝুঁকির মধ্যে রাখছেন।

সামরিক উত্তেজনা বাড়লে ইরানিদের কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, সে বিষয়েও পরামর্শ দেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির অবনতি হলে সাধারণ মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে হবে এবং আইআরজিসির অবস্থান থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিজেদের বাড়িই সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।

৭০টি বেসামরিক স্থাপনায় সামরিক উপস্থিতির অভিযোগ
মার্কিন কর্মকর্তার এই সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনালের গত মার্চে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনী অন্তত ১৭টি প্রদেশের ৭০টি বেসামরিক স্থাপনায় সেনাসদস্য, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব স্থাপনার মধ্যে ছিল ৩৪টি স্কুল। এ ছাড়া হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, পার্ক এবং সরকারি কার্যালয়ও ছিল তালিকায়।

তবে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। সাতটি স্থানের দৃশ্যমান তথ্য ও ছবি ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছিল। সাতটি স্থাপনাই ছিল স্কুল।

অন্যদিকে, বেসামরিক মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ইরানি কর্মকর্তারা বারবার অস্বীকার করে আসছেন।

সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা
এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই ইরানকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

একই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পরিবর্তে গ্রহণযোগ্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। তাঁর মতে, দুই পক্ষ এখন পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই নিখুঁত চুক্তির অপেক্ষায় না থেকে বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

এদিকে শুক্রবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কাতারের দেওয়া কয়েকটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। এসব প্রস্তাবের মধ্যে এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে তেহরান আগে রাজি ছিল না।

এর এক দিন আগে রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ওয়াশিংটন ইরানের উত্থাপিত সাতটি দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে রাজি নয় দেশটি।

কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। একদিকে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে বেসামরিক স্থাপনায় সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ-সব মিলিয়ে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বজায় রয়েছে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

Walton
Walton