ছবি সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মসূচি জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সংশ্লিষ্ট সম্পদ কিংবা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে যাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে, তাঁরা সিগন্যাল অ্যাপ অথবা টরভিত্তিক গোপন যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে তা জানাতে পারবেন।
ঘোষণায় বলা হয়, তথ্যের ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিরা আর্থিক পুরস্কার এবং প্রয়োজনে অন্যত্র নিরাপদে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।
কোন ধরনের তথ্য চাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও কর্মীদের পরিচয়, পারমাণবিক কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং এসব কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের তথ্য।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্যোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
নতুন করে সামরিক হামলার হিসাব-নিকাশ
এমন ঘোষণা এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই। একই সময়ে দেশটির ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলার বিষয়ে অপেক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তাঁর প্রশাসন।
তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যেন আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও পদক্ষেপ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভব হলে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না তিনি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সে পথেও যেতে হতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই জানা যাবে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা
ফক্স নিউজকে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা থাকবে। ফলে ওই রাতে চাঁদের আলো প্রায় থাকবে না। সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি অনুকূল হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা সামনে রেখে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন থেকে এখনো নতুন কোনো অভিযানের নির্দেশনা পায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মিত্রদেশগুলোর মধ্যেও আলোচনা চলছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো অঞ্চলটিতে অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা এবং সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি-দুই উদ্যোগই ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: ফক্স নিউজ




