ছবি: বহুমাত্রিক.কম
ঐক্যবদ্ধ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গড়ার প্রত্যয় জানালেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ আয়োজিত চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠিত এই প্রত্যয় জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশে নানা শ্রেণির মানুষের বাস। ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি, পাহাড়ি সম্প্রদায়, তাদের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি আছে। আমরা যে সুন্দরের চর্চা করি সেটাই সংস্কৃতির চর্চা। সুন্দরের চর্চা করতে গিয়ে যখন বাধাগ্রস্ত হই তখন আমরা সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলি অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে।’

‘বৈচিত্র্যের মধ্যে আমরা ঐক্য চাই’ উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিভাজন-বিভেদ চাই না। সংঘাত চাই না। আজকে সংঘাতপূর্ণ পৃথিবীতে মানুষ যেভাবে হানাহানি করছে, একটা দেশ আরেকটা দেশের ওপর যেভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে আমরা এটা চাই না। আমরা বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য চাই। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাড়াতে চাই। অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গড়তে চাই।’
অনুষ্ঠানের সম্মানীয় অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘এই উৎসবগুলোকে ভারত ও বাংলাদেশের মাঝে বিদ্যমান গভীর শিকড়যুক্ত অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা এই দুই দেশের সমাজ ও জনগণকে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করে।’

ড. সুবর্ণা নওয়াদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পহেলা বৈশাখ ও চৈত্র সংক্রান্তি ঐতিহ্যিক পরম্পরা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা ও কবি রাজু আলীম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পরিষদ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীরপ্রতীক।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন এর শিল্পীদের সমবেত ও একক পরিবেশনায় গান-নৃত্যে ঋতু বৈচিত্র্যের আখ্যান তুলে ধরা হয়। সংগীত পরিবেশন করেন ড. মকবুল হোসেন, পুতুল দাস, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, দেবযানী দত্ত, প্রিয়ন্তু দেব ও অনন্যা কর্মকার। তবলা সঙ্গত করেন স্যামসন সরকার, কী-বোর্ডে ছিলেন রবিনস চৌধুরী। শতরূপা ধর শ্যামার পরিচালনায় দলীয় নৃত্য নজর কাড়ে দর্শকদের।

‘ঋতু বন্দনায় ঐতিহ্যের অন্বেষণ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পল্লী বাংলার ব্রতচারী সংঘের জারি-নৃত্য। তক্ষশিলা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও আবৃত্তিশিল্পী নাদিমুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অঙ্কিত পটচিত্র পরিদর্শন করেন বিশিষ্ট অতিথিরা।




