ফাইল ছবি
মেট্রোরেলের গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ক্রুটি ধরা পড়েছে। গত বছর মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে পথচারীর মৃত্যুর পর হাইকোর্টের নির্দেশে নিরাপত্তা অডিটের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে। নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্চ আদালতে তা জমা দেয়া হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান- ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড(ডিএমটিসিএল)।
কী আছে তদন্ত প্রতিবেদনে: নিরাপত্তা অডিটে মেট্রোরেলের ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে, যা পরিদর্শন করা প্যাডগুলোর ২৩ শতাংশের বেশি। ২১.২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনের একাধিক স্থানে পিয়ার হেড (থামের উপরিভাগ) এবং কংক্রিটের বেইজ বা ভিতে উল্লেখযোগ্য ফাটল শনাক্ত করেছে অডিট কমিটি। এছাড়া মরিচা ধরা রেললাইন, ফাস্টেনিং (আটকানোর সরঞ্জাম) এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশও পাওয়া গেছে। ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের (ওসিএস) ইনসুলেটেড ওভারল্যাপগুলোতে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ বা স্পার্কিং একটি স্থায়ী পরিচালনগত ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে, যা অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে জানিয়েছে এমআরটি লাইন-৬ এর পরিচালন ঝুঁকি ও কাঠামোগত অখণ্ডতা পরীক্ষা করা নিরাপত্তা অডিট কমিটি।
কমিটি প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, কম্পন, ঝাঁকুনি, ট্র্যাক-সাপোর্ট সমস্যা, ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাড এবং সাময়িক গতিসীমা সংকোচনের কারণে রাইডিং কোয়ালিটি বা যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিরিক্ত কম্পন নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ট্রেনগুলো তাদের মূল নকশাকৃত বা ডিজাইন স্পিডে চলতে পারছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও পুরো সিস্টেমটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে চলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, তবে ট্রেনগুলো বর্তমানে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলছে। এমনকি কিছু কিছু সেকশনে প্রকৃত গতি নেমে যাচ্ছে ঘণ্টায় মাত্র ৪৪ থেকে ৪৭ কিলোমিটারে। যা মেট্রোরেলের কর্মক্ষমতার বড় ধরনের ঘাটতি নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালত ডিএমটিসিএলকে ২৮টি সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে আটটি স্বল্পমেয়াদি, ১০টি মধ্যমেয়াদি এবং ১০টি দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ রয়েছে। এ ছাড়া ডিএমটিসিএলের চলমান ও ভবিষ্যৎ সব এমআরটি প্রকল্পে বাস্তবায়নের জন্য কমিটির আরও ছয়টি কৌশলগত সুপারিশ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ডিএমটিসিএল। কমিটি সুপারিশ বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সমন্বয় এবং সার্বিক অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করবে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং ডিএমটিসিএলের প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়মিত উচ্চ আদালতে দাখিল করা হবে।




