Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, সোমবার ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

শ্রীপুরে তিন গ্রামের লোকজনের গাছের সাঁকো দিয়ে পারাপার


৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার, ০৮:৩৭  পিএম

টি.আই সানি, গাজীপুর

বহুমাত্রিক.কম


শ্রীপুরে তিন গ্রামের লোকজনের গাছের সাঁকো দিয়ে পারাপার

গাজীপুর : গাজীপুরের শ্রীপুর সদরের দুই কিলোমিটার দূরের তিনটি গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা দুটি শালগাছ দিয়ে তৈরী সাঁকো। কয়েকবছর ধরে নিজেদের প্রয়োজনীয়তায় দুটি শাল গাছ দিয়ে গ্রামবাসীরা স্থানীয় সেরার খালের উপর এই সেতুটি নির্মাণ করে পারাপার হয়ে আসছেন।

চারদিকে উন্নত সভ্যতার ছোঁয়া লাগলেও এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন প্রতিবন্ধকতায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে গ্রামবাসীর। তাই এলাকার মানুষের কন্ঠে এখন ঝড়ছে শুধুই ক্ষোভ আর হতাশা।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ,শ্রীপুর সদরের দুই কিলোমিটার দুরেই গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রাম। গ্রামের অপর দুই দিকে রয়েছে বাউনী ও সিটপাড়া গ্রাম। তিনটি গ্রাম দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে সেরার খাল (স্থানীয় ডাকনাম)। এই খালের দুই পাশে দুটি পাকা সড়ক থাকলেও হেরা পটকা এলাকায় একটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে পাকা সড়কগুলো। বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে এই খালে পানির প্রবাহ থাকায় গ্রামবাসীর অন্যতম ভরসা এই গাছ দিয়ে তৈরী বাঁশের সাঁকো। তবে সাঁকো দিয়ে পাড়াপাড়ে বয়স্ক, শিশু ও নারীদের বিরম্বনায় পড়তে হয়। এর ফলে তিনগ্রামের লোকজনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এখন সেতুকে ঘিরেই।

হেরাপটকা গ্রামের আব্দুস সাহিদ আকন জানান,তিন গ্রামের মানুষের চারমাস সেরার খালের উপর গাছের সাঁকো দিয়ে পাড়াপাড় করতে হয়। বছরের অন্যসময় খালে পানি থাকে না, তখন হেঁটে চলাচল করা যায়। সাঁকোর দুই দিকে সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে কর্ণপুর-বাউনি পাকা সড়কও। এখানে একটি সেতু নির্মান হলে এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমবে।

কন্ঠে হতাশা ঝরছিল সত্তোরোর্ধ ফজলুল হকের। তিনি জানান, যুগ ধরেই এখানে একটি সিতু নির্মান হবে বলে শুনে আসছেন। তবে কবে যে হবে, সে কথা কেউ বলে না। দুটি গাছ দিয়ে কোনমতে একটি সাঁকো তৈরী করায় তা ঝুঁকিপূর্ন। এখানে উঠলেই পা কাপা শুরু করে।

হেরাপটকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তারের ভাষ্য,এই বিদ্যালয়ে মূলত তিনটি গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা পাঠদানে অংশ নেয়। তবে বিদ্যালয়টির অবস্থান হচ্ছে হেরাপটকা এলাকায়। পাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে অনেক শিশু শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে পাঠদানে অংশ নিতে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করেন।

বিশেষ করে বর্ষকালে যখন খালে পানি থাকে তখন সাঁকো পাড়াপাড়ারের ভয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন।

গোসিঙ্গা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ফারুক আহমেদ জানান,উপজেলা সদরের খুব নিকটের এই জনপদ সবচেয়ে অবহেলিত। সারাবছর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাবিখা, টিআর,কাবিটা ও অতিদরিদ্রমানুষের কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে সরকারের এসব প্রকল্পে সেতু নির্মানের কোন বরাদ্ধ রাখা হয় না। এরপরও তিনি যখন ইউপি সদস্য ছিলেন দায়িত্ব নিয়েই গ্রামবাসীদের সহায়তায় গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরী করে আপদকালীন ব্যবস্থা করেছিলেন।

একই ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য হুমায়ুন কবির জানান,সেরার খালের উপর সেতুর অভাবে মূলত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে গ্রামগুলো। সেতুর অভাবে দুই দিকে পাঁকা সড়ক থাকার পরও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে যানবাহন না চলায় শিশু,বয়স্ক, রোগী নিয়ে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হয়। এছাড়াও বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত গ্রামগুলোর অর্থনৈতিক গুরুত্বও কমছে।

গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাগবে খালের উপর এখানে শিগ্রই একটি সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম প্রধান। তার মতে,তিনি উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব নিয়েছেন ছ’মাস হলো, এরই মধ্যে স্থানীয়রা দুর্ভোগের বিষয়টি তাকে অবহিত করায় অগ্রাধিকার ভিক্তিতে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Netaji Subhash Chandra Bose
BRTA
Bay Leaf Premium Tea

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ