ফাইল ছবি
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে চাঁদপুরে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। গতকাল শুক্রবার জেলা মৎস্য বিভাগ এসব তথ্য জানিয়েছে।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণের জন্য চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী অভয়াশ্রম এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে নদীতে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকবেন। আর বেকার হয়ে পড়া এসব জেলের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪০০ জেলেকে দেওয়া হচ্ছে ভিজিএফের চাল। ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের এ চাল দেওয়া শুরু হয়েছে। জেলেরা ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মোট ৪ মাস ৪০ কেজি করে ১২০ কেজি চাল পাবেন।
গতকাল চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মেঘনা উপকূলীয় জেলেপল্লি এলাকায় বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয়। তাদের মধ্যে একজন জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ।
তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা জাল ও নৌকা ডাঙায় উঠিয়ে রাখেন। কিন্তু তাদের যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, এতে তাদের সংসার চলে না।
একই এলাকার জেলে আলী আক্কাছ মাঝি বলেন, ‘মাছ আহরণ করে আমাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। অবসর সময়ে বরাদ্দ দেওয়া খাদ্য-সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। কারণ শুধু চালে সংসার চলে না। সন্তানদের পড়ালেখা ও ঋণের কিস্তি নিয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়।’
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স। আইন অমান্য করে জাটকা ধরা হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধে নৌ-পুলিশ সক্রিয় থাকবে। নৌ-সীমানার মধ্যে যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করলে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে অংশীজনদের আরও তৎপর হতে হবে।
তিনি জেলেদের জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।
ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, জাটকা সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ আজকের জাটকা আগামী দিনের ইলিশ। জাটকা সংরক্ষণ হলে এর সুফল জেলেসহ সবাই পাবে।k




