Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

মাঘ ২৮ ১৪৩২, বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আওয়ামী লীগের ভোট হবে জয় পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর

রাশিদ মামুন

প্রকাশিত: ১৯:৩৩, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিন্ট:

আওয়ামী লীগের ভোট হবে জয় পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর

ফাইল ছবি

ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের ভোট জয় পরাজয়ের বড় ফ্যক্টর হয়ে উঠবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এবার মূল প্রতিদ্বদন্দ্বীতা হবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন জোটের। রাজৈনিতক কার্যক্রমের ওপর বিধি নিষেধ থাকায় এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে নেই। দলটির উপরের স্তরের নেতা কর্মিদের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি দেশেও কারাগারে রয়েছে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মি। তবে ভোটের মাঠে দলদির কর্মিদের নিজেদের পক্ষে পেতে বিএনপি এবং জামায়েত দুই দলই চেষ্টা চালিয়েছে।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যাবে মাঠ পর্যয়ে কেবল আওয়ামী লীগের ভোটের হার ৩০ থেকে ৪০ ভাগের মতো। দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোন কোন সময় আসন কম পেলেও ভোটের হার খুব একটা কমেনি।

স্বৈরাচার পতনের পর দেশে দেশে একটি অন্তবর্তী সরকারের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০.০৮ ভাগ ভোট পায়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ৮৮ টিতে জয় লাভ করে। কিন্তু কাছাকাছি হার ৩০.৮১ ভাগ ভোট পেয়ে বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনটিতে জামায়াতে ইসলামী ১২.১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৮ টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনে মোট ভোটারের মধ্যে ৫৫.৪৫ ভাগ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। 

আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামের জোটবব্ধ আন্দোলনের ফলে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনের পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয়সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৯৬ সালের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪.৯৬ শতাংশ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৭. ৪৪ ভাগ ভোট পায়। অন্যদিকে বিএনপি ৩৩.৬১ ভাগ ভোট পেয়ে বিএনপি ১১৬টি আসনে জয়লাভ করে। সেবারের ভোটে জামায়াতে ইসলামী ৮.১৬ ভাগ ভোট পেয়ে ৩টি আসনে জয়লাভ করে। তবে ওইবার ভোটে জাতীয় পার্টি ১৬.৪ ভাগ ভোট পেয়ে ৩২টি আসনে জয়লাভ করে। 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৯৯৬-২০০১ সলে সরকার পরিচালনার পর আওয়ামী লীগ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য লতিফুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকারগঠন করে।

আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি আসন পায়। নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে চারদলীয় জোট করে জামায়াতে ইসলামী। 

নির্বাচনে বিএনপি ৪০. ৯৭ ভাগ এবং আওয়ামী লীগ ৪০. ১৩ ভাগ ভোট পায়। নির্বাচনে জামায়াদে ইসলামী ভোট পায় ৪.২৮ ভাগ। ওই নির্বাচনে ৭৪.৯৭ ভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। 

ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য বিচারপতিদের বয়স নতুন করে নির্ধারন করা হয়। এতে করে বিএনপি সমর্থক বিচারপতি কে এম হাসান তত্ত্বাবধায়স সরকারের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন এমন খবরে রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ আন্দোলন গড়ে তোলে। একই সঙ্গে এম এ আজিজকে বিএনপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়। এতে করে রাজনৈতিক দলগুলোর তরফে অভিযোগ করা হয় দেশের ভোটার তালিকায় এক কোটি ভূয়া ভোটার অন্তরভূক্ত করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে কক্ষমতা হস্তান্তরের পর ওই সময়ের রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ নিজেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষনা করেন। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনে দেশের পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে উঠলে সেনা সমর্থিত ফকরুদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেয়। যা ফকরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের সরকার নামে বিশেষ ভাবে পরিচিত। 

টানা দুই বছর ধরে ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরীর কাজ করে ওই সরকার। 

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে জোটতগ ভাবে মহাজোট ৫৬.৪৫ ভাগ ভোট পেয়ে ২৬৩ আসনে জয়লাভ করে। এককভাবে আওয়ামী লীগ তাদের আসনগুলোতে ৪৮. ০৪ ভাগ ভোট পেয়ে ২৩০টি আসনে জয়লাভ করে। 

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট ৩৭ দশমিক ৬১ ভাগ ভোট পায়। বিএনপি তাদের আসনগুলোতে মোট ভোটের ৩২.০৫ ভাগ পেয়ে ৩০টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ওই নির্বাচনে ৪.৭ ভাগ ভোট পেয়ে মাত্র ২টি আসনে জয়লাভ করে। 

২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচন গুলোকে অবাধ এবং অংশগ্রহণমূলক বলে বিবেচনা করে না দেশের সকল রাজনৈতিক দল। ফলে এই সময়ের পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তবতার অনেক কিছুরই মিল নেই।

Walton
Walton