Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

মাঘ ২০ ১৪৩২, মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিন্ট:

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক

ফাইল ছবি

এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। আজ মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষ না হতেই নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। বুধবার সকাল ৮ টায় শেষ হবে পূর্বঘোষিত ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি। এরপর শুরু হবে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। 

পরিষদের ঘোষিত এই কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক‍্য পরিষদ (স্কপ)। এক জরুরি সভা করে স্কপ এটি সমর্থন করে। পৃথক আরেক বৈঠকে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার শাখাওয়াত ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম‍্যান আশিক চৌধুরী ও বন্দর চেয়ারম‍্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করে তারা।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রক্রিয়া শুরু করার বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে চট্টগ্রামে। 

যুগ্ম সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্কপের বিকেলের জরুরি সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তপন তত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, এমরান হোসেন, হেলাল উদ্দিন কবির, নুরুল আবসার তৌহিদ, জাহেদ উদ্দিন শাহিন, ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।

সভায় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচির প্রতি স্কপের সমর্থন প্রদান এবং কর্মসূচি সফল করার জন্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের শ্রমিক ও সচেতন জনতার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে আজ সকাল ১১টায় ইসহাক ডিপো টোল প্লাজা চত্বরে এক সমাবেশ করে স্কপ। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম।

সকালের সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম হোসেন খোকন ও হুমায়ুন কবির, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন প্রমুখ।

এসময় বক্তারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ গণবদলির মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বলেন, বদলি করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। অবিলম্বে শ্রমিকনেতাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারা চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশ থেকে বন্দরের কথিত দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বন্দর চেয়ারম্যান ও বিডা চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে চাকরি থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বন্দর সমস্যার সমাধানে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শাখাওয়াত হোসেনের পদত্যাগও দাবি করেন বক্তারা।

এদিকে বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া হুমায়ুন কবীর বলেন, দীর্ঘ সাত মাস ধরে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার যৌক্তিকতা বারবার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কর্ণপাত না করায় শ্রমিক-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। 

পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, দমন পীড়নের অংশ হিসেবে বদলিকৃত শ্রমিকদের আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে গণবদলি বন্ধ এবং ডিঅ্যাক্টিভেট করা সব আইডি পুনরায় অ্যাক্টিভ করতে হবে। ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। 

Walton
Walton