ফাইল ছবি
কনকনে শীতে জবুথবু মানুষ। গতকাল শনিবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল দেশের ৯ জেলায়। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাজশাহী, ঈশ্বরদী ও বদলগাছীতে। এসব অঞ্চলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীতে রেকর্ড করা হয় ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী শনিবার রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতিও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস। এদিকে সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ সময় ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
গত ৩১ ডিসেম্বর এই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। এরপর ১ ও ২ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে চার থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। সাধারণত যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
এবারের শীতে মানুষের যে অভিজ্ঞতা হচ্ছে এর চেয়ে আরও বেশি হাড়কাঁপানো শীত দেখেছে এই অঞ্চলের মানুষ। ১৯৬৪ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তিন দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। চার বছরের মাথায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড হয় দুই দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে শীতের আগের ওই রেকর্ড ভেঙ্গে যায়। সে বছর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। একই বছর উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুরে আগের তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙ্গে হয়েছিল দুই দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস।
একই বছরে (২০১৮ সাল) উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর ডিমলায় ৩, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩.১ এবং দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারও আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের তিন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে সময় রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩.৫, ৩.২ ও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
২০০৩ সালে রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মাঝে অন্যতম।




