ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। দেশগুলোর মধ্যে চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানও রয়েছে। ‘বন্ধু দেশ’ হিসেবে এই দেশগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে জলপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে
গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালী ‘শুধুমাত্র শত্রুদের জন্য বন্ধ।’ তিনি আরও বলেন যে, তেহরান চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানসহ মিত্র দেশগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছেএক্সে দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, আমরা চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তানসহ মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছি।
এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ নয় - এটি শুধুমাত্র শত্রুদের জন্য বন্ধ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের শত্রু এবং তাদের মিত্রদের জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেয়ার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা খবরে দেখেছেন: চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। কয়েক রাত আগে দুটি জাহাজ এখান দিয়ে গেছে, এবং আরও কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশও, আমার বিশ্বাস। এই দেশগুলো আমাদের সাথে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে এবং যুদ্ধের পরেও ভবিষ্যতে এটি অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোকে নিরাপদ পথ করে দিয়েছে। তেহরান সতর্ক করেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা তাদের মিত্রদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ এই পথ দিয়ে যেতে দেবে না।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পথটি পুনরায় খোলার আহ্বান জানানোর পর আরাঘচির এই মন্তব্য আসে।




