ফাইল ছবি
মানুষের বিপদে, সঙ্কটে দৌঁড়ে যেতেন আগ বাড়িয়ে। সাধ্যমতো চেষ্টা করতেন সহযোগিতার। ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে অর্থ সহযোগিতা ছাড়াও নিজের প্রতিষ্ঠা, পরিচিতি ও কানেক্টিভিটি ব্যবহার করে দাঁড়াতেন আর্ত মানবতার পাশে। জনকল্যাণ, মানুষকে সহযোগিতায় ছিলেন অন্তপ্রাণ। সে শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার, গবেষক বকুল হায়দারের (এসএম খালেকুজ্জামান) মরদেহ পড়ে আছে ভারতের চেন্নাই অ্যাপোলে হাসপাতালের মর্গে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় ইন্তেকাল করেন বকুল হায়দার (৬২)। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন। লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করায় কয়েক বছর ধরে তিনি ফুঁসফুঁসসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা, পুত্রসহ আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তার ছড়া ও শিশু সাহিত্য পাঠকমহলে ব্যপক সাড়া জাগায়। পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করতেন প্রচুর। ‘আকাশের টিপ’, ‘রঙের মানুষ’, এইদিন সেইদিন’, ‘পাথর বাড়ির নীল রহস্য’ তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। মঙ্গলবার তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পর সাহিত্যিক,সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু-স্বজনরা শোক প্রকাশ করেন।
বকুল হায়দারের পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ধারাবাহিকতায় তিনি সম্প্রতি ভারতের চেন্নাইয়ে যান। স্বাস্থ্যের অবণতি ঘটলে গত ৬ মার্চ তাকে অ্যাপলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে আইসিউতে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন রক্ত বমি হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎক মৃত ঘোষণা করেন।
পেশাগত জীবনে বকুল হায়দার ছিলেন ঠিকাদার, ব্যবসায়ী। কিন্তু লিভার ট্রান্সপ্লান্ট এবং পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে ব্যয়বহুল চিকিৎসায় অর্থনৈতিকভাবে নি:স্ব হয়ে যান তিনি। সহায়-সম্পদ বিক্রি এবং আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় চলছিলো তার চিকিৎসা। ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধের কারণে কারো কাছে তাকে হাত পাততে দেখা যায় নি। সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত এ মানুষটির মরদেহ এখন পড়ে আছে চেন্নাইয়ের অ্যাপলো হাসপাতালের মর্গে। হাসপাতালের বিল জমেছে ২৬ লাখ রূপি। এ অর্থ পরিশোধ না করলে তার মরদেহ দেয়া হবে না।
এমতাবস্থায় পরিবারের পক্ষে হাসপাতাল থেকে লাশ ছাড়িয়ে দেশে আনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ়, অসহায় স্ত্রী-সন্তানরা তাকিয়ে আছেন অলৌকিক কোনো ইশারার দিকে। দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট হাউস, সরকারি পর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বচ্ছল ব্যক্তিবর্গের প্রতি আর্থিক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। সহযোগিতা পাঠানোর অ্যাকাউন্ট নং-২১২৫২১৪০০৫৪৬৯, প্রাইম ব্যাংক লি:, বসুন্ধরা শাখা,ঢাকা। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ : মোহাম্মদ ইমতিয়াজ : ০১৭৩১৩১৮১২৩ (বকুল হায়দারের শ্যালক)।




