Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ রাষ্ট্রপতির


০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার, ১০:৪৬  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রের তিন অঙ্গকে ভারসাম্য বজায় রেখে নিজ দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ পৃথকভাবে দায়িত্বপালন করলেও তারা পরস্পর সস্পর্কযুক্ত। কেউ কারও প্রতিপক্ষ নন বরং পরস্পর সম্পূরক। তাই আপনাদের পারস্পরিক ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

শনিবার বঙ্গভবন দরবার হলে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি ও জেলা আদালতের বিচারকদের সাথে নৈশভোজে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বিচার বিভাগ থেকে জনপ্রত্যাশা পূরণে বার ও বেঞ্চকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান। সেই সাথে আদালতে অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সচেতন থাকার তাগিদ দেন।

‘আজকাল প্রায়ই দেখা যায় যে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে সম্মানিত আইনজীবীরা প্রত্যাশিত রায় না পেলে হইচই করে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটান। অনেক ক্ষেত্রে আদালত ভাঙচুরসহ সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়,’ যোগ করেন আবদুল হামিদ। তিনি বিজ্ঞ আইনজীবীদের তাদের পেশার ঐতিহ্য ও সম্মান সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

গণতন্ত্রের বিকাশ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বিচার বিভাগ আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করে থাকে।

‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার পর যাতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয় এ জন্য তৎকালীন স্বৈরশাসক কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ পাস করে। ফলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়। দীর্ঘ দিন পরে হলেও সেই কালাকানুন বাতিল হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইনের শাসন,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ৭৫ পরবর্তী স্বৈরশাসকরা সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী পাসের মাধ্যমে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতার হত্যার বিচার, জেলহত্যা বিচার, ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের ফলে জনমনে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা বেড়েছে। ‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’- এ ধরনের প্রবাদ আজ কিছুটা হলেও ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

বিচার বিভাগকে সংবিধান ও আইনের রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত দেয়ার এখতিয়ার রাখেন। সংবিধান কিংবা আইনের কোনো ধারা সম্পর্কে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। তাছাড়া নাগরিকগণের মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।