Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ আশ্বিন ১৪২৫, রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

কমলগঞ্জের বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত, পানিবন্দি বহু পরিবার


১২ মে ২০১৮ শনিবার, ০১:৩১  এএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


কমলগঞ্জের বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত, পানিবন্দি বহু পরিবার
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

মৌলভীবাজার : গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষনে ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিন্মাঞ্চল ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউয়িনের একাংশ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পতনঊষার ইউনিয়নের ৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কেওলার হাওরে তলিয়ে যাওয়া একটি বাড়ির অসহায় পরিবার সদস্যরা রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। লাঘাটা নদীতে গাছগাছালি, ঝোপজঙ্গল ও বাঁশের খাঁটি থাকায় পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও ২০ হেক্টর পরিমাণ সবজি ক্ষেত ও আউশের বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভারী বর্ষনে ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে লাউয়াছড়া, জপলাছড়া, সুনছড়া ও লাঘাটা নদী ও চা বাগানের ছড়া উপচে আদমপুর, আলীনগর, শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। এসব এলাকার উঠতি সবজি ক্ষেত ও বীজতলা নিমজ্জিত হয়। উজান এলাকার আদমপুর, আলীনগর ইউনিয়নে পানি দ্রুত নেমে গেলেও নিন্মাঞ্চলের শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধূপাটিলা, হালাবাদি, মাইজগাও, পতনউষার, শ্রীরামপুর, রূপষপুর, কেছুলুটি, সতিঝিরগ্রাম, মরাজানের পার, রাধানগর আংশিক, বনবিষ্ণপুর, রামেশ্বরপুর, নোয়াগাঁও, গোপীনগর গ্রাম এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

প্লাবনে পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর ও লাঘাটানদীর পার্শ্ববর্তী ৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কেওলার হাওর এলাকার চারটি দরিদ্র ভূমিহীন পরিবারের লোকজন আশ্রয়হীন হয়ে অসহায় জীবন ধারণ করছেন। এসব এলাকার সবজি ক্ষেত ও আউশের বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে বলে কৃষকরা অভিযোগ তোলেছেন।

কেওলার হাওরে নিমজ্জিত বাড়ির ভূমিহীন আয়াতুন বেগম ও কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, আমরা ভূমিহীন থাকার কারনে কোনদিকে জমি না থাকায় এখানে বাড়ি তৈরি করে দু:খ-কষ্টে দিন কাটছি। বৃষ্টির কারনে উজানের পানি এসে জলাবদ্ধ হয়ে বাড়ির অর্ধেক পানিতে ডুবে গেছে। এখন আমাদের থাকা-খাওয়ার জায়গা নেই। বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের খাঁটের উপর বসে ও শুক্রবার সকাল থেকে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছি। কেউ আমরার খবর নেয় না। কোথাও আশ্রয় পাইনা। অসুস্থ্য বৃদ্ধ মহিলাকে নিয়েও সমস্যায় পড়েছি। তারা আরও বলেন, আমাদের বাড়িতে চারটি পরিবারের ১৭ জন সদস্য থাকলেও কোন ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়নি।

মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ লাঘাটা নদী দিয়ে মনু নদীতে পড়লেও পতনউষার ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন অংশে লাঘাটা নদীর দু’পাশে হিজল, তমাল, জারুল, আকাশিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছগাছালিতে ভরপুর হয়ে পড়ছে। তাছাড়া লাঘাটা নদীর গোপীনগর অংশে দু’টি বাঁশের খাটি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। লাঘাটা নদীর দু’ধারে চরাঞ্চলে স্থানীয় লোকজন দখলে নিয়ে আকাশিসহ দ্রুত বর্ধনশীল গাছগাছালি রোপন করার কারনে নদীকে ঘিরে রেখেছে গাছ ও ঝোপজঙ্গল। ফলে পানি প্রবাহে নদীর প্রায় চার কি.মি. পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষক কনা মিয়া, ফয়জুর রহমান মমরো, নসাদ মিয়া বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলার বন্যার সব পানি কেওলার হাওরের মাঝদিয়ে মনুনদীতে নিষ্কাশিত হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ঢলে এখানে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাছাড়া লাঘাটা নদীর একপাশে বাঁধ থাকলেও অন্যপাশে কোন বাঁধ না থাকায় নদী পারের একাংশের সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হয়ে পড়ছে। দ্রুত পানি নিস্কাশনের জন্য গত বছরে ইউএনও সহ বিভিন্ন স্থানে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও এব্যাপারে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্লাবন এলাকার কৃষক সাধারণকে ক্ষতির পাশাপাশি চরম দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।

পতনউষার ইউপি চেয়ারম্যান তওফিক আহমদ বাবু বলেন, সম্প্রতি প্লাবনে ৫০টি পরিবার পানি বন্দি ও ঝড়ে আরও ৩০টি ঘরের ক্ষতি হয়েছে। লাঘাটা নদী খনন ও সংস্কার না হওয়ার কারনে বৃষ্টির পানিতেই গোটা এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। দ্রুত লাঘাটা নদীর পতনঊষার থেকে রাজনগরের কামারচাক পর্যন্ত গাছগাছালি ও ঝোপজঙ্গল পরিস্কার করা না হলে আউশ ও আমন ক্ষেতে বন্যার দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, বাঁশের খাঁটি অপসারণে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তাছাড়া পানিবন্দি পরিবারকে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। নদী সংস্কারের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।