Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৫ কার্তিক ১৪২৮, বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

মন খারাপে যা করবেন


০২ জুন ২০২১ বুধবার, ০৭:৫২  পিএম

আফসানা ইয়াসমিন অর্থী

বহুমাত্রিক.কম


মন খারাপে যা করবেন

ক্ষণিকের দুঃসংবাদে মলিন হতে পারে হাসিমুখ। মন খারাপ হতে পারে। বিষণ্নতা এসে ভর করতে পারে। ক্ষণিকের মধ্যেই মানসিক অবস্থা পরিবর্তনের এই ঘটনায় ভেঙে পড়বেন না। সাধারণত মানসিক বিপর্যয়ের এমন ঘটনা নানা সময়ে অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। কিন্তু মন খারাপের এই সময়টুকুর জন্য সারাটা দিন মাটি করার কোনো মানেই হয় না। মেজাজ খারাপের মুহূর্তটিকে সারাদিন চলতে দেওয়া ঠিক নয়। কিছু বিষয় মেনে চললে আপনার মানসিক অবস্থা দ্রুত ভালো হতে পারে এবং আপনার সময় ভালো কাটতে পারে। ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হাসুন প্রাণ খুলে

মন খারাপ বা মানসিক সমস্যা থাকলে তা ভালো করার সবচেয়ে ভালো ওষুধ হচ্ছে হাসি। গবেষকেরা দাবি করেন, প্রাণ খুলে হাসা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। হাসিতে মন ভালো হয়, রক্তচাপ কমে, রক্তে কোলস্টেরল কমে এবং এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

শারীরিক কসরত

শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম করলে আপনার দিন ভালো যেতে পারে। ব্যায়ামে এনডরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মেজাজ ফুরফুরে করে। বিষণ্নতা ও উদ্বেগ দূর করতেও ব্যায়াম ভূমিকা রাখে বলেই গবেষকেরা দাবি করেন।

সূর্যের মুখোমুখি

মন খারাপ লাগলে কিছুক্ষণ সূর্যের আলোয় নিজেকে মেলে ধরুন। সূর্যের আলোয় খোলা মাঠে যেতে পারেন বা ঘরের জানালা খুলে উজ্জ্বল আলোর সামনে দাঁড়ান। শরীরকে সূর্য থেকে ভিটামিন ‘ডি’ সংগ্রহ করতে দিন। গবেষকেরা বলছেন, সূর্য-রশ্মি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়াতে পারে, তেমনি মনও ভালো করে দিতে পারে।

গান শুনুন

গান শুনে আপনি আনন্দিত হয়ে উঠতে পারেন। মেজাজ ফুরফুরে লাগতে পারে। নাচতে ইচ্ছা হতে পারে কিংবা বাঁধ ভেঙে কান্নাও আসতে পারে। মন খারাপের সময় প্রিয় গান শুনলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হয়তো আপনার ভালো লাগা শুরু হয়ে যেতে পারে। গান শোনার সঙ্গে মানসিক অবস্থা পরিবর্তনের প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা।

পুরোনো ছবি দেখুন

মন বেশি খারাপ হলে আপনার পুরোনো ছবি বা খেরোখাতা খুলে বসতে পারেন। আপনার পুরোনো মধুর স্মৃতির মুখোমুখি হলে আপনার ভালো লাগা শুরু হবে এবং মন ভালো হয়ে যেতে পারে। আপনার প্রিয় ছবিটিকে কম্পিউটারে আপলোড করতে পারেন এবং স্ক্রিনসেভার হিসেবে সেট করতে পারেন। এতে কাজেও উত্সাহ বাড়তে পারে।
সবাইকে নিয়ে একত্রিত হোন

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রিত হোন, পাশাপাশি কিছু বন্ধুকে মাঝে মধ্যে দাওয়াত দিয়ে আনতে পারেন। এরপর সবাই মিলে মজাদার কোনো খেলা খেলুন। ভালো বন্ধুদের সঙ্গ আপনার সময়গুলোকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। যার মাধ্যমে নিমিষেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।

নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন

ঘরে যদি কিছু করার না থাকে, তবে মন ভালো করতে কোন একটা খোলামেলা জায়গায় হাঁটতে বেরিয়ে যান। বাইরের সবুজ প্রকৃতি ও তাজা হাওয়া আপনার মনকে সতেজ করে তুলতে সাহায্য করবে।

বন্ধু ও প্রিয়জনদের ফোন করুন

ম্যাসেজ করবেন না, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সাথে মাঝে মধ্যে ফোনে কথা বলুন। বিশেষ করে মন খারাপের সময়। তাঁকে বলুন আপনার কষ্টের কথা। কোন কিছু শেয়ার করলে কষ্ট কমে। প্রয়োজনে যেকোন পরামর্শ চাইতে পারেন তাঁদের কাছ থেকে।

নতুন কিছু করুন

নেতিবাচক ভাবনা থেকে বেরিয়ে যান। নতুন কিছু করুন। জিমে ভর্তি হোন বা খেলাধুলা কিংবা রান্নার ক্লাসে ভর্তি হতে পারেন। এতে আপনার মন ভালো রাখার জন্য দারুণ কাজে দিবে। আগামীকাল সকালে উঠে নতুন কী করবেন তাঁর পরিকল্পনা করুন।

মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন হোন

এক বা দুই মিনিটের জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে বিছিন্ন হয়ে যান। নিজে নিজেই চিন্তা করুন। যেকোন সমস্যার সমাধান আপনি নিজে নিজেই পেয়ে যাবেন। এতে শুধু শুধু আর আপনার মন খারাপ হবে না।

ঘুম

শরীর ও মন সুস্থ রাখতে বিশ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা দামি কিছু না। কম ঘুম বা বিশ্রাম শরীরের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রক্তে সুগারের ভারসাম্যহীনতা, উচ্চ চাপ স্তর, স্থূলতা ও মানসিক সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এসব থেকে ভালো থাকতে চাইলে প্রতিদিন আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

শান্ত মন

মনের অতিরিক্ত চাপ শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে চাপ এড়িয়ে চলা। একটি শান্ত মন আপনার শারীরিক কার্মক্ষমতা উন্নত করতে, শারীরিক ব্যথা কমাতে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও হার্টের উন্নতি করতে সাহায্য করে। ভালো থাকার এর চেয়ে সহজ উপায় কী হতে পারে?

গান গাইতে পারেন

দ্রুত মন ভালো করতে গেয়ে উঠতে পারেন পছন্দের কোনো গান। নয়তো নানা ধরনের পছন্দের গান শুনতে পারেন। এটা মন ভালো করার সবচেয়ে ভালো উপায়।

সাহায্য করুন

অন্যকে সাহায্য করুন। পরিবারের সদস্যদের কাজে সাহায্য করুন বা বন্ধুদের কাজে সাহায্য করুন। এতে আপনার সময় যেমন কাটবে তেমনি মন ঝটপট ভালো করে ফেলার কিছু মজার খোরাগও পেয়ে যাবেন। যা আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরুন

যখন আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধরবেন তখন আপনার শরীর থেকে অক্সিটসিন নিঃস্বরিত হবে যা ভালো অনুভূত হওয়ার হরমোন হিসেবে পরিচিত। এটি আপনার বিষণ্নতা তাড়াতে সাহায্য করবে। ভালো থাকার এটি ছোট্ট একটা উপায়।

রাঁধুন

বেশি মন খারাপ লাগলে রাঁধতেও শুরু করতে পারেন। অনেক সময় রান্না করাও আপনার মেজাজকে ভালো করে দিতে পারে।

প্রাণ খুলে হাসুন

হয়তো হাসার মতো পরিস্থিতি নেই, তবু চেষ্টা করুন হাসার। হাসি কখনো কখনো চাপ কমাতে সাহায্য করে, মেজাজ ভালো রাখে, বিষণ্ণতাকেও দূরে রাখে। তাই হাসুন। চলার পথে বার বার ভাবুন সব ঠিক হয়ে যাবে। যদিও খুব চাপের সময় এই ভাবনাটি সহজেই আসবে না, তবু ভাবুন ‌সব ঠিক হবে। আর জীবনে কি পেয়েছেন আর পেলেন না এ নিয়ে এতো চিন্তা না করে করে আগে ভাবুন আপনি এতোদিন যা পেয়েছেন তাই বা কজনা পায়। এই উপলব্ধি আপনাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে মন ও শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

লেখক: শিশু মনোবিদ ও গবেষক।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।