Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ আশ্বিন ১৪২৭, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

অপেক্ষার প্রহরের শেষ কবে?


১৫ মে ২০২০ শুক্রবার, ১১:৪৬  এএম

মাকামে মাহমুদ চৌধুরী

বহুমাত্রিক.কম


অপেক্ষার প্রহরের শেষ কবে?

‘মেঘের পর মেঘ জমেছে,
আঁধার করে আসে,
আমায় কেন বসিয়ে রাখ,
একা দ্বারের পাশে।’- (গীতাঞ্জলি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্ত লাইনগুলোর মতো বর্তমানে পৃথিবীতে বিরাজ করছে করোনা ভাইরাস নামক মহামারীর এক ভয়াবহ অন্ধকার। যদিও আলোচ্য লাইনে উক্ত আঁধারের নেই তেমন ভয়াবহতা এবং যেই আঁধার উপেক্ষা করে বাইরে যাওয়ার কথা ভেবেছেন কবি সেখানে বর্তমানে ঘরের বাইরে যাওয়াতেই রয়েছে যেন রোগটিকে ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়ে আপ্যায়ন করার মতো সাদৃশ্যতা।

ঘরের মধ্যে দিন কাটানোতেই রয়েছে যেন এই আঁধারকে জয় করার মূল মন্ত্রণা। তবে এই ঘরে বসে সময় কাটানো যে কতটা দীর্ঘায়িত হবে, কবে সেই অপেক্ষার প্রহর শেষে নতুন ভোরের সূর্যের রূপালি আভার দেখা মিলবে তা হয়তো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ বলতে পারে না। করোনাকে জয় করার ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে নতুন ভোরের সেই আলোকবর্তিকা নিয়ে হাজির হোক কোনো মহামানব সেই প্রহরের প্রত্যাশায়।

করোনা ভাইরাস মহামারীতে দেশ এবং বিশ্ব যেখানে বিপর্যস্ত সেখানে সামান্য কিছু সতর্কতা, সাবধানতা এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাই পারে করোনাভাইরাসের করাল গ্রাস হতে দেশ, জাতি ও বিশ্বকে রক্ষা করতে। সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার অভাবে অত্যন্ত ভয়াবহ এই সংক্রামক রোগের সাথে কীভাবে লড়াই করতে হয় সে সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে বিভ্রান্ত হওয়ার পরে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সংলগ্ন কর্মীরা বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো আস্থা অর্জন করেছেন বলে মনে করা যায়। তাদের কঠোর পরিশ্রম করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মুখ থেকে বেঁচে ফিরতে অর্থাৎ তাদের পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে ফেরা ব্যক্তির সংখ্যাটিকে দিন দিন ক্রমবর্ধমানে পরিণত করতে সাহায্য করছে।

একজন সামরিক কৌশলবিদ পরাজয়ের কোনও শঙ্কা ছাড়াই শত সংখ্যক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আগে শত্রুকে ভালভাবে জানার গুরুত্বের উপর বেশি জোর দেন। কিন্তু শত্রু যেখানে করোনাভাইরাস, যার বিরুদ্ধে চলছে মানবজাতির কঠোর যুদ্ধ, সেই শত্রুই চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে একেবারে অজানা রহস্যের মতো, প্রতিনিয়ত যার নতুন নতুন লক্ষণ প্রকাশিত হচ্ছে এবং অচেতনভাবে মানুষকে আক্রান্ত করেই চলেছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে করোনাভাইরাস এখনও যেন গোলক ধাঁধাঁর মতো যেখানে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তদুপরি, এই রোগটিতে আবার সাধারণত ফ্লুর মতোই লক্ষণগুলো থাকে যা দ্বারা রোগটিকে চিহ্নিত করা আসলেই অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞান মারাত্মক এই রোগটি হতে মুক্তি পেতে ভ্যাকসিন এবং ওষুধ প্রস্তুত করার জন্য এখনও গবেষণা পরিচালনার পর্যায়ে রয়েছে।  

করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন কবে নাগাদ আসতে পারে তার এখনো কোনো সময়সীমা নেই, তবে আক্রান্ত রোগীরাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চিকিৎসকেরা রোগীদের লক্ষণগুলো অনুযায়ী সাপোর্টিং ট্রিটমেন্টগুলো দিয়ে সহায়তা করে থাকেন। করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি গৌণ সংক্রমণগুলো হতে রোগীকে রক্ষা করতে তারা কিছু ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

কোভিড-১৯ এ সংক্রামিত হওয়ার পরেও যারা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে লক্ষণীয় চিকিত্সা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন তার নেপথ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা। সমগ্র বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়েই একই দৃশ্যপট। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস রোগীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে অসুস্থতা থেকে সেরে উঠেছেন। একই সঙ্গে বহুসংখ্যক ইতোমধ্যে হাসপাতালে চিকিত্সাধীনও রয়েছেন।

যদিও মারাত্মক এই ভাইরাস থেকে মৃত্যুর হার বেশ উদ্বেগজনক তবুও আশার আলো এই যে ভাইরাসটি তার চার স্তরের ক্রিটিকাল পর্যায়টি অতিক্রম করার পরে সক্রিয়তা দিন দিন হারিয়ে ফেলে। তবে স্বল্প পরিসরে হলেও যেভাবে সব কিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে ভাইরাসটি কবে নাগাদ যে তার চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছাবে তা যেন আকাশ কুসুম কল্পনা হয়ে যাচ্ছে।

যাহোক, মহামারী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যখন সবাই নেমেছি তখন পিছনে ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই; চিকিত্সা বিজ্ঞান শীঘ্রই আমাদের জন্য উপায় খুঁজে বের করবে। আমাদের এখন যা প্রয়োজন তা হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং  রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়া। তাহলে আমরা শিগগির করোনা ভাইরাসকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবো।

তবে মহামারীর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের শ্রমিক সমাজ এবং গরীব দুঃখীদেরকে ভুলে গেলে চলবে না। আধুনিক সভ্যতায় তাদের অবদানও কম নয়। চলমান লক ডাউনে ও সাধারন ছুটিতে কর্মহীন থাকার ফলে তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তাদের সাহায্যে সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কারন তাদের হারালে দেশ তার অস্তিত্বই হারিয়ে ফেলবে। পরিশেষে প্রিয় এক কবির কয়েকটি লাইন দিয়ে বলতে চাই-   

“হে পুরবাসী! হে মহাপ্রাণ,
যা কিছু আছে করগো দান,
অন্ধকারের হোক অবসান
করুণা-অরুণোদয়ে!”

মানুষ মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসুক, জয় হোক মানবতার; জয় হোক মনুষ্যত্বের। 

লেখক: শিক্ষার্থী, পুরকৌশল বিভাগ-চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।