Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩, সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ করলেই খুলবে হরমুজ প্রণালি

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৬, ১০ আগস্ট ২০২৬

প্রিন্ট:

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ করলেই খুলবে হরমুজ প্রণালি

ফাইল ছবি

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ইরান। তবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক হুমকি বন্ধসহ বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে না। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে শনিবার দেওয়া বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত প্রণালিটি পুনরায় খুলবে না।

ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সি আরাঘচির বরাত দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র শর্তগুলো পূরণ করার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলে কোন কোন নৌপথ ব্যবহার করা হবে, চুক্তিতে তা নির্ধারণ করা হবে।

রয়টার্সকে শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান ও ওমান এমন একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। আরাঘচি বলেন, জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে বলে তেহরান মনে করে। তাই ওয়াশিংটন ওই অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত সরাসরি আলোচনায় বসবে না ইরান। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার্তাসংস্থা অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প মাত্রায় যোগাযোগ বজায় রাখছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কেবল আংশিকভাবে আলোচনা করছে এবং দেশটির উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে নজর রাখছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে তেহরান। আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর চালানো ব্যাপক হামলায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এ ছাড়া ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সচিব মোহাম্মদ বাকার জোলঘাদর আরও কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- 

ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ মার্কিন সামরিক হুমকি বন্ধ করা;

ইরান ও লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকের মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করা;

উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার;

ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া;

বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পাঁচ মাসেরও বেশি আগে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখাই ছিল এসব হামলার লক্ষ্য।

জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও জুলাইয়ে উপসাগরে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আবারও অবরোধ আরোপ করে। ইরান দাবি করে, এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতিও কার্যত ভেঙে পড়ে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্নে পুনরুদ্ধারের চুক্তি ঘোষণা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেবে। তবে ইরান তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করছে কি না, তার সঙ্গে মার্কিন পদক্ষেপগুলোও যুক্ত থাকবে।

Walton
Walton