ছবি-বহুমাত্রিক.কম
রাজবাড়ী: “কানা মাছি ভো-ভো, যাকে পাবি তাকে ছো”-গ্রামীণ জনপদে ছন্দবদ্ধ এ চরণ শুনে যে কেউ বুঝে যাবেন-কী বলা হচ্ছে। এই চরণে দুরন্ত কিশোর-কিশোরীর দল যে নির্মল আনন্দে মেতে উঠতেন বাংলার গ্রামগঞ্জে তা এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না।
কানামাছি খেলার মতোই চোখ বুঝলে ভেসে ওঠে ঐতিহ্যবাহী দড়ি ঘোরানো, হা-ডু-ডু, মোরগ লড়াই, বিস্কুট দৌড়, বালিশ বদল সহ বিলুল্পপ্রায় অন্যান্য গ্রামীণ খেলা।
তবে লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জনপদের নির্মল আনন্দের খোরাক এসব খেলা আবারও মনে করিয়ে দিতে রাজবাড়ীতে রোববার জেলা পর্যায়ে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
কাজী হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পর্যায়ের গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা উদ্ভোধন করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান। ঐহিত্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ সফিকুল ইসলাম সফি।
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেন, কালুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, লেডিস কাবের সভাপতি আফরোজা ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি গোলাম মওলা, যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ খলিলুর রহমান সহ প্রমুখ।
গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতার ক্রীড়া পরিচালনা করেন রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ক্রীড়া) প্রদ্যুত কুমার দাস। এ খেলায় রাজবাড়ী সদর, বালিয়াকান্দি, কালুখালী, পাংশা উপজেলা থেকে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিরা অংশগ্রহণ করে।
গ্রামীণ খেলাধুলা শেষে বিজীয়দের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গাজী মোঃ আসাদুজ্জামান কবির। কানা মাছি ভো ভো খেলায় চ্যাম্পিয়ান বালিয়াকান্দি উপজেলা ও রানার আপ কালুখালী উপজেলা। বালিশ বদল খেলায় ১ম স্থান অধিকার করেন কালুখালী উপজেলার শ্রাবনী, উষা ও পপি এবং হা-ডু-ডু খেলায় কালূখালী উপজেলা চ্যাম্পিয়ান ও রাজবাড়ী সদর রানার আপ হয়েছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থা জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায় থেকে বাছাই ক্রমে প্রতিযোগিরা জেলা পর্যায় গ্রামীণ খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ করেছে। জেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহণ করবে।
বহুমাত্রিক.কম




