ছবি: সংগৃহীত
লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রার পর ভূমধ্যসাগরে টানা নয় দিন ভেসে থাকা ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য, সাগরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় অন্তত ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
সোমবার রাতে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে নৌকাটি। যাত্রার কিছুক্ষণ পর ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে পড়ে যায়। এরপর প্রায় কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই যাত্রা চালিয়ে যেতে হয় তাদের।গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে। পরে বাতাস ও সাগরের স্রোতে সেটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের দিকে চলে যায়। সেখানে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের একজন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল করিম।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিম বলেন, গ্রিসের কাছাকাছি যাওয়ার পর ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেলে তাদের আর সামনে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। দীর্ঘ সময় নৌকায় আটকে থাকার পর খাবার ও পানি শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে মারা যেতে থাকেন।
আব্দুল করিম আরও বলেন, খাবার ও পানির অভাবে তার চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নৌকায় মরদেহ পড়ে থাকায় সেগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জীবিতদের বাধ্য হয়ে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে হয়।
দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশেও ক্ষত ও পচন দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে মিশরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।
বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৩০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে মিশরের স্থানীয় পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি। তবে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশের হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যও ট্রাভেল পারমিটের ব্যবস্থা করে দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।




