ফাইল ছবি
ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের দেওয়া গড় মূল্যের চেয়ে ১২৭% বেশি দরে একটি চীনা কোম্পানির কাছ থেকে ঢাকা শহরের বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ সরবরাহ চার্জ হিসেবে ভারতের প্রস্তাবিত প্রতি ইউনিটে ০.০১ রুপি বৃদ্ধির বিষয়ে ঢাকার আপত্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই খবরটি সামনে এল। খবর ইন্ডিয়া টুডে’র
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নীতিতে এক বিস্ময়কর বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারতের প্রস্তাবিত প্রতি ইউনিটে ০.০১ রুপি চার্জের বিষয়ে ঢাকা আপত্তি জানিয়েছিল—যা পরে দিল্লি কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করেছিল, এর ঠিক কয়েক দিন পরেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য একটি চীনা কোম্পানিকে প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা প্রকল্পটি আকারে ছোট, যার পরিকল্পিত সক্ষমতা মাত্র ৪২ মেগাওয়াট এবং এর মূল লক্ষ্য হলো ঢাকার ক্রমবর্ধমান বর্জ্য সমস্যার সমাধান করা। তবে এই বৈপরীত্যটি এমন এক রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মুহূর্তে সামনে এল যখন বাংলাদেশ তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি, গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের সাথে লড়াই করছে; পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, চীনা প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত বিদ্যুতের দর ভারতীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের দরের চেয়ে প্রায় ১২৭% বেশি। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ প্রতি ইউনিটে প্রায় ১১ টাকা পরিশোধ করেছিল।
এক টাকার মান ০.৭৭ ভারতীয় রুপি; তবে এই তুলনার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটটি বোঝা জরুরি। ঢাকার আমিনবাজারে অবস্থিত এই প্রকল্পটি ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশে আসা বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো বিকল্প বা প্রতিস্থাপন নয়। বরং ঢাকা তার ক্রমবর্ধমান শহুরে বর্জ্যের পাহাড়, যা মূলত একটি পরিবেশগত সমস্যা; একে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য দরকারি পণ্যে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। তবে ২৫ টাকা ট্যারিফ বা দর নির্ধারণের বিষয়টি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কৌশলের খরচের ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছে; বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন বিদ্যুতের প্রতিটি অতিরিক্ত ইউনিট এবং প্রতিটি অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে।
ভারতের ০.০১ রুপি বনাম চীনের ২৫ টাকা: খরচের তুলনামূলক মূল্যায়ন
ক্রস-বর্ডার বিদ্যুৎ লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারতের প্রস্তাবিত ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি' (SNA) চার্জ বা ফি নিয়ে বাংলাদেশ আপত্তি জানানোর পর এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২৪ আগস্ট, ভারত বাংলাদেশে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের ওপর প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি এসএনএ চার্জের প্রস্তাব দেয়। ক্রস-বর্ডার বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এসএনএ চার্জ চালুর বিষয়ে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন এর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই চার্জের বিষয়টি সামনে আসে।
প্রাথমিক প্রস্তাবে প্রতি ইউনিটে ০.০১ রুপি চার্জের কথা বলা হয়েছিল, তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি উত্থাপন করার পর তা কমিয়ে অর্ধেক করা হয়। এই চার্জ মূলত বিদ্যুতের নিজস্ব মূল্য নয়। এটি ক্রস-বর্ডার বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও নিষ্পত্তির (settlement) সাথে জড়িত বিভিন্ন সেবার খরচ মেটানোর জন্য ধার্য করা হয়; যার মধ্যে রয়েছে সময়সূচি নির্ধারণ, মিটারিং, জ্বালানি বা শক্তির হিসাবরক্ষণ এবং গ্রিড পরিচালনা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হবে।
এই বিষয়টিই আমিনবাজারের বর্জ্য-থেকে-বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা মূল্য পরিশোধে ঢাকার আগ্রহকে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। অবশ্য এই দুটি চার্জ বা খরচের মধ্যে সরাসরি তুলনা করা চলে না। ভারতের এসএনএ ফি হলো লেনদেন ও গ্রিড-সংশ্লিষ্ট একটি অতিরিক্ত চার্জ, অন্যদিকে ২৫ টাকা হলো বর্জ্য-থেকে-বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য প্রস্তাবিত ট্যারিফ বা দর।
বাংলাদেশ কেন ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে?
দ্য ডেইলি স্টার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে আমদানিকৃত বিদ্যুতের গড় মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে-প্রতি ইউনিটে ৫.৮২ টাকা থেকে বেড়ে তা ১১.৭২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, আমিনবাজার প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত প্রতি ইউনিটের ২৫ টাকা দরটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানিকৃত বিদ্যুতের গড় মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি। তবে ভারত থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণের সাথে আমিনবাজার প্রকল্পের কোনো তুলনাই চলে না। এর বিপরীতে, চীনা প্রকল্পটি থেকে মাত্র ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; বিদ্যুৎ উৎপাদন এর অন্যতম একটি সুবিধা মাত্র।
চীনা বিদ্যুৎ কেন ২৫ টাকা দরে কিনছে বাংলাদেশ?
প্রস্তাবিত চুক্তিটি ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিল বা বর্জ্য ফেলার স্থানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত; এই ল্যান্ডফিলটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন দ্বারা পরিচালিত হয়। ঢাকা-ভিত্তিক সংবাদপত্র ‘নিউ এজ’ গত ২৭ আগস্ট জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার একটি চীনা কোম্পানির কাছ থেকে এই ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে কিনবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৪২ মেগাওয়াট এবং ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর মতে, আমিনবাজারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২০২৮ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। শাহে আলম জানান, এই প্রকল্পে সরকারকে কোনো সরাসরি বিনিয়োগ করতে হবে না।
প্রকল্পটির অর্থনৈতিক দিকটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়। চীনা বিনিয়োগকারী ল্যান্ডফিলে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং একই প্রক্রিয়ায় জৈব সারও তৈরি করবে। এছাড়া ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য বিনিয়োগকারী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে মাসিক ভাড়া প্রদান করবে।
শাহে আলম স্বীকার করেন, বিদ্যুতের দামটি বেশি মনে হতে পারে, তবে তিনি যুক্তি দেন যে প্রকল্পটি পরিবেশগতভাবে ব্যাপক সুবিধা বয়ে আনবে।
নিউ এজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, ‘আবর্জনা ও বর্জ্য আমাদের জাতি ও ঢাকা শহরের জন্য একটি বড় বোঝা।’ তিনি পরিবেশগত সুবিধা এবং কার্বন ক্রেডিটের কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে প্রকল্পের খরচ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। কার্যত, ঢাকা কেবল বিদ্যুৎই কিনছে না। প্রকল্পটিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন—এই তিনের সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশ এখন বিদ্যুৎ সংকটের মুখে
প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরের এই উদ্যোগটি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে মূলত এর সময়ের কারণে। গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির মোকাবিলা করছে। এই সংকট রাজপথেও ছড়িয়ে পড়েছে; দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সরবরাহের ঘাটতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করছে।
এই তাৎক্ষণিক সংকটের মূল কারণ এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর। দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হয়, অথচ বর্তমানে সরবরাহের পরিমাণ কমে দৈনিক প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
এর ফলে সৃষ্ট ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের সৃষ্টি করেছে। কোনো কোনো এলাকায় বাসিন্দাদের ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। কিন্তু আমদানিকৃত বিদ্যুতের সরবরাহও কমে যাওয়ায় এই সংকট এখন সরকারি দপ্তরের বাইরেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
ভারতের অব্যাহত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাংলাদেশের বড় উৎস
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু আমদানিকৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ভারত এখনও বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান উৎস। বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ২,৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে ঢাকার।
উভয় উৎসের সক্ষমতার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। চীনের আমিনবাজার প্রকল্পটি যেখানে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করবে, সেখানে ভারতের সাথে বিদ্যমান ব্যবস্থায় ২,৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই বাস্তবসম্মতভাবে বিচার করলে, চীনের এই প্রকল্পকে ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না। এর গুরুত্ব মূলত ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিহিত।
আমিনবাজার প্রকল্পটি বাংলাদেশের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে চীনের আরও বড় ভূমিকার সূচনাও হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ল্যান্ডফিল বা বর্জ্য ফেলার স্থানে জমা হওয়া বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পের জন্য চীনা কোম্পানি ‘পাওয়ারচায়না’-র সাথে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানিগুলোর ভূমিকা আরও বড় হবে। তবে আপাতত, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় আমিনবাজার প্রকল্পটি একটি অপেক্ষাকৃত ছোট সংযোজন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যখন বাংলাদেশে রাস্তায় বিক্ষোভ হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই ঢাকা ভারতের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। অথচ ভারত-প্রস্তাবিত প্রতি ইউনিটে মাত্র ০.০১ রুপি আন্তঃসীমান্ত নিষ্পত্তির মাশুল (সেটেলমেন্ট চার্জ) নিয়েও বাংলাদেশ আপত্তি জানাচ্ছে; অথচ একই সময়ে তারা চীনের একটি ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ প্রকল্পের জন্য প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা মূল্য পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একদিকে যখন বাংলাদেশে বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে জনগণ বিক্ষোভ করছেন, তখন প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা মূল্যের প্রস্তাবটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও পর্যালোচনার জন্ম দেবে।




