Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

শ্রাবণ ১৯ ১৪৩৩, বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২৬

আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা, ‘বাংলাদেশ-ভারতের দূত’ হিসেবে আখ্যা

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:১০, ৪ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২৩:১২, ৪ আগস্ট ২০২৬

প্রিন্ট:

আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা, ‘বাংলাদেশ-ভারতের দূত’ হিসেবে আখ্যা

ছবি: ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বাংলাদেশ থেকে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস’ (আইসিসিআর)-এর বৃত্তিপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। তিনি এই তরুণ শিক্ষার্থীদের ভারতে অবস্থানকালে বাংলাদেশ ও ভারতের দূত হিসেবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। 

হাইকমিশনার তাঁদের ভারতে অধ্যয়নের এই সুযোগকে কেবল নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্যই নয়, বরং ভারতকে জানার, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তোলার এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করার কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন। দীনেশ ত্রিবেদী মঙ্গলবার ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মর্যাদাপূর্ণ আইসিসিআর বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বিদায় জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ঢাকা থেকে ১২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁরা শিগগিরই ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে চারুকলা এবং ফার্মেসি থেকে সঙ্গীত—এমন নানা বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনা করতে ভারত সফরে যাবেন।

এ বছর সারা বাংলাদেশ থেকে মোট ৫৪১ জন শিক্ষার্থীকে আইসিসিআর বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ জন শিক্ষার্থী ‘সুবর্ণ জয়ন্তী বৃত্তি’ পেয়েছেন, যার মাধ্যমে তাঁরা ‘স্টেম’ (STEM) এবং ‘নন-স্টেম’ (non-STEM) উভয় শাখায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনা করবেন। এছাড়া ৩৮ জন শিক্ষার্থী ‘লতা মঙ্গেশকর নৃত্য ও সঙ্গীত বৃত্তি’ পেয়েছেন, যা তাঁদের ভারতে নৃত্য, সঙ্গীত ও সংস্কৃতি বিষয়ক পড়াশোনার সুযোগ করে দেবে। 

আরও তিনজন শিক্ষার্থীকে আইসিসিআর-এর ‘কোয়াড’ (QUAD) বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে, যার ফলে তাঁরা ভারতে ‘স্টেম’ (STEM) বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা করতে পারবেন। এ বছর আইসিসিআর বৃত্তির জন্য সারা দেশ থেকে ৭,৭০০-এরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থিত ভারতের সহকারী হাইকমিশনগুলোর পরিচালনায় দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে এই ৫৪১ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে।

বৃত্তিপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় ভারতের হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী আইসিসিআর বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন যে, ভারত এই শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে... । তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতে পড়াশোনা করার বিষয়টি ভারতের বৈচিত্র্য উপভোগ করার এক চমৎকার সুযোগ করে দেবে। তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান তাঁদের সন্তানদের এমন মেধাবী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আস্থা রাখার জন্য।

আইসিসিআর (ICCR) বৃত্তি হলো ভারত সরকারের একটি বিশেষ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রকৌশল, বিজ্ঞান, সাহিত্য, মানবিক ও চারুকলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি (PhD) পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। 

সম্পূর্ণ অর্থায়িত এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT), দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার অনন্য সুযোগ লাভ করেন। আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্তদের কোনো টিউশন ফি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো ফি দিতে হয় না; পাশাপাশি দৈনন্দিন খরচ মেটানোর জন্য তাঁরা আইসিসিআর-এর পক্ষ থেকে মাসিক বৃত্তি বা ভাতা পেয়ে থাকেন।

Walton
Walton