ফাইল ছবি
বড় অঙ্কের ঋণে জর্জরিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন করে কর নীতি সহায়তা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একক প্রতিষ্ঠান বা কোনো গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নির্ধারিত মেয়াদের বাইরে আরও সর্বোচ্চ চার বছর অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে।
নতুন এ সুবিধা পেতে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করা যাবে। আর প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর এসব আবেদন আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) এ বিষয়ে সার্কুলার লেটার নং-৩০ জারি করেছে। দেশের কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আগে দেয়া নীতি সহায়তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই নতুন এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এর আওতায় নীতি সহায়তা পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ করা যাবে। শুধু নতুন আবেদনকারী নয়, যেসব ঋণগ্রহীতা আগে ব্যবসা ও আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত নীতি সহায়তা–সংক্রান্ত বাছাই কমিটির মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন, তারাও নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
তবে নতুন সার্কুলারে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে বড় ঋণগ্রহীতাদের। কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের নীতি সহায়তার আওতায় বিশেষ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করা ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারবে ব্যাংক।
এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। অর্থাৎ বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তি পরিশোধ শুরুর আগে সর্বোচ্চ দুই বছর সময় পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ ১৫ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে।বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও দেয়া হয়েছে বাড়তি ছাড়। বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৬/২০২২-এ নির্ধারিত মেয়াদের বাইরে আরও সর্বোচ্চ চার বছর সময় দিয়ে ঋণ পুনর্গঠন করা যাবে।
তবে এ বিশেষ সুবিধা সবার জন্য নয়। একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের আবেদন করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার কম হলে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এ নির্ধারিত মেয়াদই বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, যেসব ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ অথবা নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটির আওতায় সুবিধা পেয়েছেন, তারাও নতুন নির্দেশনায় বর্ণিত বাড়তি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে আগে নেয়া গ্রেস পিরিয়ডের সময় নতুন করে গণনা করা হবে না। ইতিমধ্যে যে সময় পার হয়েছে, সেটি নতুন নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিধিবদ্ধ সীমার মধ্যে অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া যাবে।নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ঋণের শ্রেণিমান অনুযায়ীও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আসবে। অন্যদিকে বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবে।
তবে সব আবেদনই নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর নিষ্পত্তি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, এ সার্কুলারের আওতায় জমা হওয়া আবেদন আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করেছে।নতুন সিদ্ধান্তকে বড় অঙ্কের ঋণে জর্জরিত ও আর্থিক সংকটে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য নীতি সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে ঋণ পুনর্বিন্যাসের সুযোগ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ প্রবাহের চাপ কমবে এবং ব্যবসা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংক খাতের ঋণ শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ, বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনঃতফসিল, দুই বছর পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড এবং বিশেষ পুনর্গঠনে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ফলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ আদায় কতটা বাড়বে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।এশীয় সংস্কৃতি জানা
বিশেষ করে ব্যাংক খাতে যখন খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বড় ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তখন নতুন এ নীতি সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে নাকি বড় ঋণখেলাপিদের জন্য আরেক দফা ছাড়ের সুযোগ তৈরি করবে—সেটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।




