ছবি: সংগৃহীত
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইনে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির লিজহোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। একই ঘটনায় আরও দুই হোটেলকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বুধবার গভীর রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবু জাফরকে হেফাজতে নেয় তদন্তকারী দল। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এন্টালি থানার মেন মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকায়।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজ-সংক্রান্ত নথি ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এসব তদন্তে আবু জাফরের ভূমিকা সামনে আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে আরও দুই হোটেলকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের একজন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলের বিপরীতে থাকা ‘যাপন’ হোটেলের ম্যানেজার এবং অন্যজন ওই হোটেলের কর্মী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘যাপন’ হোটেলটির লিজহোল্ডারও আবু জাফর।
এদিকে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক এবং দুজন ভারতীয়। নিহতদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি মেশিনে বিস্ফোরণ অথবা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে আগুন হোটেলের অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের পাশাপাশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া। এতে হোটেলের ভেতরে থাকা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের লালবাজার থেকে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট)। অগ্নিকাণ্ডের উৎস, ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে সিট।
এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার ধারা ১০৫, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারা ৬১ এবং সমবেতভাবে অপরাধের ধারা ৩/৫, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী, যুক্ত করা হয়েছে। দমকল বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি অভিযোগ করা হয়েছে।




