ফাইল ছবি
ব্রিটিশ নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার ও সমকালীন ইংরেজি সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র টম স্টপার্ড আর নেই। শনিবার ডরসেটের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। স্টপার্ডের এজেন্সি এক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
১৯৯৮ সালে ‘শেক্সপিয়ার ইন লাভ’–এর চিত্রনাট্যের জন্য অস্কার জয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান টম স্টপার্ড। তবে তাঁর সাহিত্যিক যাত্রার প্রথম আলো এসে পড়ে ১৯৬৬ সালে লেখা বিখ্যাত নাটক ‘রোজেনক্রান্টজ অ্যান্ড গিল্ডেনস্টার্ন আর ডেড’–এর মাধ্যমে, যা শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ অবলম্বনে নির্মিত। বুদ্ধিদীপ্ত ভাষা, দার্শনিক গভীরতা ও স্বতন্ত্র হাস্যরসের অনন্য মিশ্রণে তৈরি তাঁর নাটকগুলো আধুনিক থিয়েটারের প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
স্টপার্ডের এজেন্সি জানায়, “আমাদের প্রিয় বন্ধু টম স্টপার্ড শান্তিপূর্ণভাবে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর কাজ, তাঁর উদারতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং ইংরেজি ভাষার প্রতি অপার ভালোবাসা তাঁকে সব সময় স্মরণীয় করে রাখবে।”
টম স্টপার্ডের মৃত্যুতে বিনোদনজগতের বহু তারকা শোক প্রকাশ করেছেন। রক কিংবদন্তি মিক জ্যাগার লিখেছেন, “টম স্টপার্ড আমার প্রিয় নাট্যকার ছিলেন। তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক, মজাদার ও অসাধারণ লেখাগুলো আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁকে ভীষণভাবে মিস করব।”
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল থিয়েটার এক শোকবার্তায় জানায়, “স্টপার্ডের তীক্ষ্ণ রসবোধ, নতুনত্বপূর্ণ গল্প বলার কৌশল এবং দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টি তাঁকে আমাদের সময়ে অনন্য করে তুলেছিল।”
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নাটক, চলচ্চিত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের জন্য লিখেছেন স্টপার্ড। অস্কারের পাশাপাশি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে তিনটি অলিভিয়র ও পাঁচটি টনি অ্যাওয়ার্ড। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’ ও ‘স্টার ওয়ার্স’-এর জন্যও পরিচিত ছিলেন।
১৯৩৭ সালে চেকোস্লোভাকিয়ায় জন্ম নেওয়া স্টপার্ড পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হন। সাংবাদিকতা দিয়ে পেশাজীবন শুরু করলেও পরে নাট্যকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৭ সালে সাহিত্যসেবায় অবদানের জন্য তাঁকে নাইটহুড প্রদান করে ব্রিটিশ সরকার। তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া স্টপার্ড চার সন্তানের জনক; তাঁদের একজন এড স্টপার্ড পেশায় অভিনেতা।
আধুনিক নাটকে ভাষা, দর্শন ও রসিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন টম স্টপার্ড। তাঁর মৃত্যুতে সমকালীন শিল্প–সাহিত্য জগৎ এক মহান সৃষ্টিশীল মননশীল ব্যক্তিত্বকে হারাল।




