Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

যশোরের সেই লিতুন জিরা পিইসি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে


২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার, ১১:২৬  পিএম

কাজী রকিবুল ইসলাম, যশোর

বহুমাত্রিক.কম


যশোরের সেই লিতুন জিরা পিইসি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে

মুখে ভর দিয়ে লিখেই দুই হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেয়া সেই লিতুন জিরা এবার পিইসি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে। লিতুন জিরা যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শেখ পাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে। সে এবার উপজেলার খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর আগে লিতুন জিরা জিপিএ-৫ লাভ করে। মঙ্গলবার বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান।

লিতুন জিরা পর নির্ভর হয়ে সমাজের বোঝা হতে চায় না। লেখা পড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হয়ে আরো ১০ মানুষের মতো আত্মনির্ভশীল হতে চায় জন্ম থেকে দুই হাত-পা ছাড়া জন্ম নেয়া লিতুন জিরা। মুখ দিয়ে লিখেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছে এই শিক্ষার্থী।

স্থানীয়রা জানায়, লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন জিরা অত্যন্ত মেধাবী। হুইল চেয়ারেই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে এ-প্লাস পেয়ে লিতুন জিরা মেধার স্বাক্ষর রাখে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বৃত্তির ফলাফলে লিতুন জিরা সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।

তার বাবা হাবিবুর রহমান উপজেলার এ. আর মহিলা কলেজের প্রভাষক। তিনি গত ১৭ বছর ধরে ওই কলেজে চাকরি করলেও আজও কলেজটি এমপিওভূক্তি হয়নি। তার বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু বেতন না পাওয়ায় খুব কষ্টে তাদের সংসার চলে।

লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম বলেন, জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে নানা চিন্তা তাদের পেয়ে বসতো। এখন মেয়ের মেধা তাদের আশার সঞ্চার করছে। লিতুন জিরা আর ১০ জন শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া, গোসল সব কিছুই করতে পারে। মুখ দিয়েই লেখে সে। তার চমৎকার হাতের লেখা যে কারো দৃষ্টি কাড়বে।

লিতুন জিরা পর নির্ভর না হয়ে লেখা পড়া শিখে নিজেই কিছু করতে চায়। তবে, সম্প্রতি মৃত্যুবরণকারী দাদুর জন্য খুব মন খারাপ লিতুন জিরার। বৃত্তি পাওয়ার খবরে লিতুন জিরার দাদু বেঁচে থাকলে তিনি খুব খুশি হতেন বলে জানায় লিতুন জিরা।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea

বিশেষ প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ