ফাইল ছবি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু আইসিইউ নেই :হামে আক্রান্ত ৫ শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৬৬
হামে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘন্টায় আরও দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে ও রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। হাম আক্রান্ত হয়ে এ নিয়ে গত ১২ দিনে ১০৬ শিশু ভর্তি এবং পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মমেক হাসপাতালে শুন্য বয়স থেকে এক মাস বয়স পর্যন্ত নবজাতক শিশুদের জন্য এনআইসিইউ এবং বয়স্ক জটিল রোগীদের জন্য আইসিইউ এর ব্যবস্থা থাকলেও জটিল শিশু রোগীদের জন্য মমেক হাসপাতালে কোনো আইসিইউ নেই। ফলে মুমূর্ষূ শিশু রোগীরা আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে অথবা অবস্থা বেগতিক দেখে ওই শিশু রোগীদের ঢাকার স্থানান্তর করে হাসপাতাল ও চিকিৎসকরা দায়িত্ব থেকে খালাস নিচ্ছেন।
মমেক হাসপাতালে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ৬৬ জন শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেলেভর্তি আছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে তিনজন ভর্তি হয়েছে এবং ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মূমুর্ষু শিশু রোগীদের আইসিইউ সুবিধা নেই স্বীকার করে মমেক হাসপাতালের সহকারি পরিচালক মোম্মদ মাইন উদ্দিন খান জানান, শিশু রোগীদের আইসিইউ না থাকলেও আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। নতুন বিল্ডিং এর ৬ তলায় শিশু রোগীদের আইসিইউ এর জন্য একটি রুম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার থেকে প্রয়োজনীয় লোকবল এবং যন্ত্রপাতি সরবরাহ পাওয়া গেলেই শিশু রোগীদের জন্য আইসিইউ চালু করা সম্ভব হবে।
মমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ছয় মাস বয়সী নুরুন্নবী নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার আয়নাল হকের ছেলে। গত শনিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অন্যদিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবদিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের সাত মাস বয়সী ছেলে লিয়নকে ২৭ মার্চ দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শিশুটি গত শনিার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মারা যায়।
আবদুর রহিম বলেন, ঈদের আগে নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে পাঁচ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর হাম বের হলে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে গত শনিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর একমাত্র ছেলের মৃত্যু হয়।
মমেক হাসপাতালে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামলাতে ২৪ মার্চ হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিক্যাল দল গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের চিকিৎসায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তিনটি পৃথক কক্ষ করা হয়। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল দলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কক্ষগুলোতেও রোগী সংকুলান হচ্ছে না। ১৮ মার্চ থেকে হাম রোগীদের তথ্য হাসপাতালে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে, মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয় ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যেও নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য লক্ষণ আছে।
মমেক হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, হাম আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম আক্রান্ত শিশুরা হামের পাশাপাশি জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে শিশু বিভাগের তিনটি কক্ষ নিয়ে করা হাম কর্নার সরিয়ে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি চলছে।
ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বর্তমান যুগ্ম-আহবায়ক কাজী রানা বলেন, রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের প্রায় তিন কোটি মানুষের চিকিৎসার একমাত্র বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষূ শিশু রোগীদের জীবন বাঁচাতে শিশু আইসিইউ না থাকাটা খুবই দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। এই অঞ্চলের হাজার হাজার মুমূর্ষূ শিশু রোগীর জীবন বাঁচাতে গণতান্ত্রিক সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনগুরুত্বপূর্ণ শিশু আইসিইউ অবিলম্বে স্থাপন করবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা। এ ছাড়াও মমেক হাসপাতালকে দেশসেরা হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে ভূক্তভোগী মানুয়ের পক্ষ থেকে তিনি জোর দাবী জানান।




