Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৭ আশ্বিন ১৪২৬, সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

বেঙ্গল শিল্পালয়ে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী জামদানি উৎসব শুরু


০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার, ০৯:১০  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


বেঙ্গল শিল্পালয়ে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী জামদানি উৎসব শুরু

বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার থেকে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ‘ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক পাঁচ সপ্তাহব্যাপী জামদানি উৎসব।

‘ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী বর্তমান প্রজন্মের বয়নশিল্পীদের অপরিসীম দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নৈপুণ্যের সাক্ষ্য বহন করে। প্রদর্শনী উপলক্ষে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ বয়নশিল্পী ও তাঁদের সহকারীদের ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে।

বিকেল ৫টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট ড. গাদা হিজাউয়ি-কাদুমি।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। আরও উপস্থিত ছিলেন জামদানি উৎসবের কিউরেটর চন্দ্র শেখর সাহা ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

অতিথিদের বক্তব্য প্রদানের পর প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশিত ক্যাটালগ এর মোড়ক উন্মোচনের জন্য মঞ্চে আসেন বেঙ্গল পাবলিকেশন্‌স-এর নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসনাত, বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সভাপতি রুবী গজনভী এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু।

এরপর পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জামদানি বয়নশিল্পী ও তাঁদের সহকারিদের ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ওস্তাদ মোঃ সজিব হোসেন ও তাঁর সহকারি মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ মোতালিব ও সহকারি নুর আলম, মোঃ মুনির ও সহকারি আবু বকর, ওস্তাদ মোঃ সিদ্দিক ও সহকারি মাক্সুদা এবং মোঃ জামাল ও সহকারি শাকিল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খালিদ হোসেন ও মালিহা মাজিন খান।

জামদানি উৎসব ২০১৯

জামদানি বয়নশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মৌলিক, উৎকৃষ্ট ও অন্যতম অংশ। অসাধারণ নকশায় সমৃদ্ধ জামদানি বস্তুত মসলিনেরই একটি প্রকার, যা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের বয়নশিল্পীদের হাতে অনবদ্য শিল্পকর্মে রূপ নিয়েছে। ষষ্ঠদশ শতকে মুঘল শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার নন্দিত মসলিন হয়ে ওঠে সৃজনসৌকর্যে উৎকৃষ্ট নকশাদার জামদানি। পারসিক মোটিফের সঙ্গে বাংলার নিসর্গের ফুল-ফলের নকশা সংযোজন করে বয়নশিল্পীরা জামদানিকে করে তোলেন অনিন্দ্যসুন্দর।

ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে এই অঞ্চলে এবং ইউরোপে ও ইংল্যান্ডে পুরুষ ও মহিলাদের সৌখিন বস্ত্র হিসেবে জামদানি অত্যন্ত আদরণীয় ছিল। বর্তমানেও মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জামদানি বস্ত্র অপরিহার্য পরিধেয়। উনিশ শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে শুরু হয় জামদানিশিল্পের ক্রম-অবনতি।

ক্ষয়িষ্ণু মুঘল রাজশক্তির প্রেক্ষাপটে জামদানি বয়নশিল্পীরা বঞ্চিত হন জরুরি পৃষ্ঠপোষণ থেকে। এছাড়া ইংল্যান্ডে বয়নশিল্পে প্রযুক্তিগত উন্নতি ও মেশিনারি সংযোজন এবং স্থানীয় বাজারে ইউরোপের তুলনামূলক সস্তা অথচ নিম্নমানের সুতার অনুপ্রবেশ জামদানি শিল্পকে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বর্তমান সময়ে উন্নতমানের সুতার অভাব এবং উৎপাদনের অত্যধিক ব্যয় জামদানি বয়নে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদি জামদানির অভূতপূর্ব মূলানুগ অনুকরণে সমর্থ এদেশের বর্তমান প্রজন্মের বয়নশিল্পীদের অসামান্য কুশলতা তুলে ধরতেই বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে জামদানি উৎসব।

জামদানি উৎসবের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁকে ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ক্রাফট সিটি’র মর্যাদালাভের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।