ফাইল ছবি
শীতের রুক্ষ্মতা শেষে প্রকৃতিতে নেমে এসেছে বসন্ত। শনিবার পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন এবং বাংলা সনের একাদশ মাস।
বসন্ত মানে পূর্ণতা। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানে ফাগুনের নানা রং। বাংলা মাসের ফাল্গুনের প্রথম দিন থেকে এ ঋতু শুরু। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফাল্গুন নামটি এসেছে মূলত ফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষ উভয়ই মেনে চলা হতো। ফাল্গুন ছিল পূর্ণ চন্দ্রের মাস।
১৯৫০-১৯৬০ দশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু হয়। সে সময় বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের সংস্কৃতি থেকে নিজেদের আলাদা করতে রবীন্দ্রসংগীত শোনার পাশাপাশি বাঙালি নিয়মে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু করে। তবে ৭১-এর পর স্বাধীন দেশে ১৯৯১ সালে সর্বপ্রথম ফাল্গুনের প্রথম দিনকে পহেলা ফাল্গুন ও বসন্তবরণ উৎসব হিসেবে উদ্যাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ
বসন্তে গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়। ফুলের মুকুল আসে। পাখি গান গায়। আর বাতাসে ভাসে মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ। প্রজাপতিরা রঙিন ডানা মেলে জানায় ঋতুরাজের আগমনী বার্তা। নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার বার্তা নিয়ে আসে বসন্ত। শুধু প্রকৃতিতেই নয়, মানুষের মনেও প্রাণের ছোঁয়া জাগায় বসন্ত।
বসন্ত ঋতুকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে কবি, সাহিত্যিকরা। তারা বসন্ত ঋতুকে নিয়ে লিখেছেন অসংখ্য গান ও কবিতা। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়: ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের বসন্ত নিয়ে লিখেছেন, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে সই গো, বসন্ত বাতাসে’। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্ত নিয়ে লিখেছেন, ‘আহা আজই এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে’র মতো অসংখ্য কালজয়ী গান।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ যেমন, তেমনি এ মাসের রাজনৈতিক গুরুত্বও অসীম। ফাগুনে শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রং মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ফাগুনের শহীদদের কথা। মনে করিয়ে দেয় ভাষাশহীদের রক্তের ইতিহাস। এ মাসেই মায়ের ভাষা বাংলার জন্য জীবন দিয়েছিলেন রফিক, শফিক, বরকত, সালামরা। তাদের রক্তের সোপান বেয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই ফাগুন বাঙালির দ্রোহেরও মাস।




