Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শনিবার ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

পুলিশ সব পারে !


২৬ আগস্ট ২০১৯ সোমবার, ১২:২৬  এএম

কাজী রকিবুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


পুলিশ সব পারে !

যশোর : যশোর শহরের খড়কী রেললাইনের বস্তি দখলের জন্য হামলা মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশের সোর্স। এ সাথে যোগ হয়েছে কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ। পুলিশ আর সোর্সের মারপিটে, নির্যাতনে দিশেহারা পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নির্যাতিতরা জানান, খড়কী রেললাইনের পাশে আব্দুল খালেকসহ ২৫টি ঘরের বসবাস করছে দীর্ঘদিন ধরে। সরকারি এ জমিতে নজর পড়েছে যশোর কোতয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার আমিরুজ্জামানের সোর্স নাসরিন ও তার স্বামী বাপ্পী।

ডিআইজির কাছের লোক বলে পরিচয় দেয়া এ নাসরিন ও বাপ্পী কয়েকদিন আগে আব্দুল খালেকের ছেলে রিকসা চালক রুহুল আমিন ও আল আমিনসহ সকলকে বস্তি থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। অন্যান্যরা প্রতিবাদ না করলেও রুহুল আমিন ও আল আমিন এতে বাধ সাথে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কোতয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার আমিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খালেকের বাড়িতে হানা দেন।

রুহুল আমিন আগেই আটক করে দড়াটানার থেকে। আর আল আমিনকে না পাওয়ায় তার সন্ধ্যান দেয়ার জন্য বৃদ্ধ মা সালমা বেগমকে তুলে নিয়ে আসে। ওই রাতেই তাকে আল আমিনের শ্বশুরবাড়ি যশোর সদর উপজেলার বিরামপুরে নিয়ে যায়। রুহুল আমিন ইটভাটা মামলায় জামিনে আছে এবং তার রিকল দেখালে মা সালমা বেগমের কাছ থেকে নিয়ে আমিরুজ্জামান তা ছিড়ে ফেলে বৃদ্ধাকে মারপিট করে। আল আমিন না পেয়ে খড়কীর রেললাইনের পাশে নতুন ম্যাচে গিয়ে হাজির হয়। আল আমিনকে না পাওয়ায় আবারো মারপিট করে বৃদ্ধা সালমা বেগমকে মারপিট করে রেললাইনের উপর ফেলে রেখে আসে।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে রুহুল আমিনকে আদালতে চালান দেয় কোতয়ালি থানার পুলিশ। আদালতে ফরোয়াডিংয়ে মামলা নম্বর উল্লেখ করা হয় ৪০৫। আদালতে হাজতি রেজিস্টারেও একই মামলা নম্বর লেখা হয়। জামিন প্রাপ্ত মামলা নম্বর উল্লেখ করায় আদালত পাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে কোতয়ালি থানার পুলিশ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা সৃষ্টি করে ওই মামলায় আটক দেখানো হয়। মামলা নম্বর ৬৫। মামলায় আটক রুহুল আমিনসহ জিসান, রুহুল আমিনের ভাই আল আমিন এবং ওই বস্তির আরো দুইজনকে আসামি করা হয়। কোতয়ালি মডেল থানার এসআই লিটন দাস বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় আসামির বাড়ি থেকে থেকে হাত বোমাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার দেখিয়েছেন। ভোর ৫টা ৫মিনিটে বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় স্বাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে চাঁচড়া এলাকার রিয়াজ এবং সেকেন্ড অফিসারের সোর্স বিটুলকে।

স্থানীয়রা জানান, রুহুল আমিনকে আটকের পর আল আমিন ও অন্যনা আসামিরা ওইদিন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পুলিশের সোর্স বিটুলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে নাড়ি ভুড়ি বের করে দেয়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। ওই রাতেই রুহুল আমিন ও আল আমিনের বাড়িতে গভীর রাতে হামলা চালায় নাসরিন ও বাপ্পীর লোকজন। এসময় তারা টিনের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। এসময় ১শ গজ দুরে কোতয়ালি থানার পুলিশ দাঁড়িয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, সোর্স নাসরিন, বাপ্পী খানের আবদার রাখতে কোতয়ালি থানার পুলিশ সব কিছু করছে। এ ব্যাপারে কোতয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিরুজ্জামানের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।