Bahumatrik Logo
২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, বুধবার ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

প্রবাসী পরিবারের হয়রানি থেকে পরিত্রাণ চান নির্যাতিত পরিবার


১০ মে ২০১৬ মঙ্গলবার, ০৭:০০  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


প্রবাসী পরিবারের হয়রানি থেকে পরিত্রাণ চান নির্যাতিত পরিবার
ছবি: বহুমাত্রিক.কম

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের ফ্রান্স প্রবাসী ফয়জুল হক শামছুর পরিবারের অব্যাহত মিথ্যা ও হয়রানিমুলক মামলায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ী পরিবার ও স্বজনরা দিশেহারা। দোকান কৌঠার জামানত নিয়ে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধে কয়েক মাস পূর্বে ব্যবসায়ীকে বাসায় নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর চুরি, নারী নির্যাতন ও ডাকাতিসহ হয়রানিমূলক বিভিন্ন মামলায় ফেলার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শমশেরনগরের নির্যাতিত ব্যবসায়ীর বড় বোন মাহবুব আরা।

লিখিত বক্তব্যে মাহবুব আরা বলেন, আমার ছোট ভাই আব্দুল কাইয়ূম শমশেরনগর বাগান সড়কস্থ প্রবাসী ফয়জুল হক শামছুর মালিকানাধীন বাসার সম্মুখের মার্কেটে ঘর ভাড়া নিয়ে অলিম্পিক বিস্কুট কোম্পানীর কমলগঞ্জ উপজেলার পরিবেশক হিসাবে নেহাল ডিষ্ট্রিভিউশন-এর মাধ্যমে সুনামের সাথে ব্যবসা করছিলো।

মৌখিকভাবে দুই লাখ টাকা নিরাপত্তা অর্থ দিয়ে ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। আকস্মিকভাবে ভবন মালিক নিরাপত্তা অর্থ বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার নির্দেশনা দেন। আমার ভাই আকস্মিকভাবে দোকানের বাড়ানো নিরাপত্তা অর্থ দিতে আপত্তি জানালে তার ছোট ভাই আব্দুল কাইয়ূমের সাথে ভবন মালিকের বাবা হাজী মোতালেব সাহেবের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘরের মালিক ফয়জুল হক শামছুর বাবা ও আত্মীয় স্বজনরা দোকান ছেড়ে দিতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, প্রবাসীর বাবা হাজী মোতালেবের অসুস্থ্যতার নাম করে গত বছরের ৬ সেপ্টেমবর রাত সাড়ে ৯টায় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ূমকে ঘর মালিক প্রবাসীর ভাগ্নে রুবেল মিয়া (২৮) এর মাধ্যমে দোকানের পিছনে বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। বাসার বসার ঘরের দরজা অতিক্রম করে ভিতরে প্রবেশকালে আব্দুল কাইয়ূমের চোখে স্প্রে মেরে সাথে সাথে তার হাত ও পা বেঁধে মেঝেতে ফেলে ঘরের মালিক ফয়জুল হক শামছু ও তার নিজস্ব লোক শমশেরনগর ইউনিয়নের সদস্য ফারুক আহমদের নেতৃত্বে ৮/১০ জন লোক কাইয়ূমকে লাটি, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে বেদড়কভাবে পেটায়। বেদড়ক পিটুনিতে আমার ভাই কাইয়ূমের এক পায়ের দুটি স্থানে হাঁড়, এক হাতের হাঁড় ও হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে যায়।

খবর শুনে শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ ও শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান গিয়ে হাত পা বাঁধা অবস্থায় আব্দুল কাইয়ূমকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ফাঁকে প্রবাসী ফয়জুল হক শামছু তার স্ত্রী সুলতানা আক্তারকে বাদী করে নির্যাতিত কাইয়ূমকে আসামী করে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর ঘর চুরির একটি মামলায় অভিযুক্ত করে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় গ্রেপ্তার করেন।

আব্দুল কাইয়ূমের অবস্থার অবনতি হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা সেবার জন্য প্রেরণ করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে আব্দুল কাইয়ূমকে মৌলভীবাজার আদালতে আনা হলে তার জামিন না মঞ্জুর করে একই দিনই কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর আদালত আব্দুল কাইয়ূমের জামিন মঞ্জুর করেন।

ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ূমেক অমানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে শমশেরনগরে সর্বস্থরের মানুষজন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন পালন করেন। বিষয়টি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। প্রতিবাদ করার কারনেই শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও একজন সাংবাদিককে আসামী করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন প্রবাসী শামছু। তাতেও তারা থেমে থাকেনি। নোয়াখালিতে নকল ও ভূঁয়া কাগজ দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আব্দুল কাইয়ূমকে আসামী করে একটি মামলা করে।

সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল রাতে একটি সাজানো ঘটনা দেখিয়ে প্রবাসী সামছুর ভাগ্নে নাহিদুল ইসলাম চৌধুরী রাসেল বাদী হয়ে হয়ে কমলগঞ্জ থানায় ৫ মে আরও একটি মামলা দায়ের করে। ঐ মামলায় নিরীহ কাইয়ুমসহ ৭ জনকে আসামী করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্যাতিত ব্যবসায়ীর ছোট বোন সাজেদা পারভীন ও মামা নূরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ৩০ এপ্রিল রাতে সহকারী পরিদর্শক আবু সায়েম কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে অবৈধভাবে আমাদের বাসায় প্রবেশ করে প্রতিটি ঘর তছনছ করে আমার ছোট ভাই আব্দুল কাইয়ূমকে খোঁজতে থাকে। আমারা কোন প্রকার নির্দেশনা ও বৈধ কাগজ ছাড়া বাসায় এভাবে হানা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে পুলিশ দ্রত স্থান ত্যাগ করে প্রবাসী পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নতুন নাটক সাজিয়ে মামলা করেন। অথচ এসব মিথ্যে মামলার কারণে প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর তারা কমলগঞ্জ থানায় মামলা দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহন করেনি। তখন তারা বাধ্য হয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তে পাঠালে আবার প্রবাসীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নির্যাতনকারীর পক্ষে প্রতিবেদন প্রেরণ করে।

মাহবুব আরা আরও বলেন, কমলগঞ্জ থানার তৎকালীন কর্মকর্তা মো: এনামুল হকের সাথে পরামর্শ করে গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ূমকে বাসায় ডেকে নিয়ে প্রবাসী ফয়জুল হক শামছু নিজে ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এভাবে নির্যাতন করেছে। পরবর্তীতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্তাদেরও ভুল বুঝিয়ে তদন্তের নামে আমাদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়।

তারা এসব ঘটনা নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মহোদয়ের সাথে দেখা করতে গেলে কোন প্রকার মূল্যায়ন না করে উল্টো কটুক্তি করে নাজেহাল করা হয়। আমাদের বাড়ি ঘরের পুরুষরা এসব মামলার আসামী হওয়ায় র বাসা বাড়ি এখন পুরুষ শূণ্য। এ অবস্থায় তদন্তের নামে প্রতিদিন দিনে রাতে দুই বার আমাদের বাসায় গিয়ে হানা দেয়।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।