ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে রক্তের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একে ‘সংকটজনক পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে আমেরিকান রেড ক্রস। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ১৫০ বছরের ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয়বার রক্তের সরবরাহ এত নিচে নেমে এসেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
আমেরিকান রেড ক্রসের কর্মকর্তা ডা. কোর্টনি লরেন্স জানান- দাবানল, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু গত মাসেই রক্তের মজুত প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। এমন সময় এই সংকট দেখা দিয়েছে, যখন গ্রীষ্মকালে সাধারণত হাসপাতালগুলোতে রক্তের চাহিদা বেড়ে যায়। গ্রীষ্মে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি এবং মানুষ বেশি সময় বাইরে কাটানোর কারণে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ে। ফলে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজনও বেশি হয়।সংবাদ বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্রে মোট রক্তের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে আমেরিকান রেড ক্রস। ডা. লরেন্স জানান, বছরের এই সময়ে তারা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ইউনিট বেশি রক্ত বিতরণ করছেন। এতে সংস্থাটিকে তাদের রক্তের মজুতের একেবারে শেষ পর্যায় পর্যন্ত ব্যবহার করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, রক্ত দীর্ঘদিন মজুত করে রাখা সম্ভব নয়। কারণ এর নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে এটি নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের কোষ সময়ের সঙ্গে ক্ষয় হতে থাকে। তাই দান করা রক্ত ৪২ দিনের মধ্যে ব্যবহার করতে হয়।
বর্তমানে সব ধরনের রক্তেরই প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিশেষভাবে প্রয়োজন ‘ও পজিটিভ’ গ্রুপের রক্ত, যা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর রক্তের গ্রুপ জানা না থাকলেও ব্যবহার করা যায়। ডা. লরেন্স জানান, বিভিন্ন হাসপাতাল আশঙ্কা করছে, এই সংকটের প্রভাব নিয়মিত অস্ত্রোপচারেও পড়তে পারে। এমনকি কিছু হাসপাতাল বিবেচনা করছে, পর্যাপ্ত রক্ত না থাকলে জরুরি রোগীদের অন্য ট্রমা সেন্টারে পাঠাতে হতে পারে। তিনি বলেন, আগে থেকেই রক্তের ঘাটতি ছিল। কিন্তু কয়েকটি কারণ একসঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি এখন সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অনেক মানুষ বাইরে বের হতে অনাগ্রহী। ফলে রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কমেছে। আবার যেসব স্থানে রক্তদান শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, সেখানে নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া দাবানল মোকাবিলায় অনেক সম্পদ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে খাদ্যবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। রেড ক্রসের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে মূলত সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের পরজীবীজনিত ডায়রিয়া রোগের বিস্তারের কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে, কোভিড-১৯ মহামারি এবং তীব্র শীতকালীন দুর্যোগের সময় প্রথমবারের মতো রক্তের সরবরাহকে সংকটজনক ঘোষণা করেছিল আমেরিকান রেড ক্রস।
এদিকে, কানাডাতেও রক্তের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কানাডিয়ান ব্লাড সার্ভিসেস জানিয়েছে, জুনের শুরু থেকে দেশটিতে রক্তের সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০টি রক্তদানের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পূরণ হয়নি। ফলে রোগীদের চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান মজুত থেকে রক্ত ব্যবহার করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, কানাডায় রক্তদানের হার কেন এত কমেছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
কানাডিয়ান ব্লাড সার্ভিসেস বলেছে, গ্রীষ্মকালে রক্তদান কিছুটা কমে। এটি স্বাভাবিক এবং পরিকল্পনায় ধরা থাকে। তবে এবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন প্রবণতার তুলনায় অনেক কম। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, কয়েকটি রক্তের গ্রুপের মজুত এখন এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।




