Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

কার্তিক ১৫ ১৪৩৩, রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬

পর্যটন জনপদ হতে পারে ঐতিহাসিক গৌরীপুর

শেখ মো. ফুয়াদ, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮:২৭, ২১ মে ২০১৫

আপডেট: ২২:২৯, ২১ মে ২০১৫

প্রিন্ট:

পর্যটন জনপদ হতে পারে ঐতিহাসিক গৌরীপুর

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের শাসানামলের স্মৃতি বিজড়িত। সময়ের পরিবর্তনে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটলেও উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জমিদার আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন ও নজরকাড়া স্থাপত্যশৈলী। এ অঞ্চলে রয়েছে ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিবর্গের সমাধি, মুঘল ও সুলতানি শাসনামলের প্রাচীন নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা।

এসব প্রাচীন নিদর্শন শিল্পের কিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অযত্ন-অবহেলায়, কিছু রয়েছে শুধু ধ্বংসাবশেষ এবং কিছু আজও দাঁড়িয়ে আছে মহাকালের সাী হয়ে। রাজা-জমিদারদেও নজরকাড়া এসব স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্য ও প্রাচীন নিদর্শনগুলোকে কাজে লাগিয়ে অনেক আগে থেকেই দাবি উঠেছিল পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও এ দাবি পূূরণ হয়নি।

উপজেলার ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গৌরীপুরের প্রাচীন জমিদার আমলের সুনিপুণ কারুকার্যে নির্মিত প্রাচীন ভবন, অনন্ত সাগর, গোলপুকুর, বৃত্তাকার দ্বীপ, রানীর দীঘি, পামবীথি সড়ক, প্রাচীন দুুর্গা মন্দির, নাট্য মন্দির (বর্তমান ঝলমল সিনেমা হল), গৌরীপুর রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, জমিদার সুরেন্দ্র প্রসাদ লাহেড়ি ভবন (বর্তমান গৌরীপুর সরকারি কলেজ), জমিদার ডি কে লাহিড়ীর ভবন (বর্তমান উপজেলা ভূমি অফিস), রামগোপালপুর জমিদারবাড়ির সিংহ দরজা, শানবাঁধানো ঘাট উল্লেখযোগ্য।

রয়েছে জমিদার মহারাজা শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরী, রাজা কাশীকিশোর রায় চৌধুরী, যুগেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী, ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী, হরেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীসহ বিভিন্ন জমিদারদের পুরাতন ভগ্ন বসতবাড়ির নজরকাড়া স্থাপত্য। ঐতিহাসিক জীর্ণ স্থাপনাগুলোর নজরকাড়া নির্মাণশৈলী দেখলে এখনো ভ্রমণ পিপাসু মানুষের নয়ন জুড়িয়ে যায়।

মনোমুগ্ধকর এসব পুরাতনকীর্তি দেখতে শত শত মানুষ প্রতিদিনই এসব স্থানে ভিড় জমায়। উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নে রয়েছে মুঘল সম্রাট আলমগীরের আমলে নির্মিত শাহী মসজিদ, হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার (র.) মাজার, শাহ মারুফ (রহ.) এর মাজার।

এছাড়াও আফগান সেনাপতি উসমান খাঁর নির্মিত বোকাইনগর কেল্লার ধ্বংসপ্রাপ্ত শেষ চিহ্ন, কালীবাড়ি ও কালীবাড়ির প্রাচীন মঠ প্রাচীন ইতিহাসের সাী হয়ে রয়েছে। মাওহা ইউনিয়নের কেল্লা তাজপুরের মুঘল দেওয়ান উমর খাঁর রাজধানীর মাটির প্রতিরা বেষ্টনীর ধ্বংসাবশেষ, বিলুপ্রায় ছিমুরানীর দিঘি, কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়ির বার ভূইয়া ঈশাঁ খাঁর বংশধর ফিরোজ খাঁর স্ত্রী সখিনা বিবির সমাধি, সমাধির পাশে শতবর্ষী বয়সী কুন্দুকুসুম গাছগুলো এখনো কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মত অনেক দর্শনীয় স্থান উপজেলায় আছে। কিন্তু প্রচার- প্রচারণার অভাবে এর অনেক কিছুই পর্যটকদের রয়ে গেছে অজানা। এখানে আগতদের জন্য বসার, বিশ্রাম নেয়ার বা থাকার মতো তেমন কোনো ব্যবস্থাও নেই।

এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলার ঐতিহাসিক স্থানগুলো সরকারি উদ্যোগে সংস্কার করে রণাবেণ করলে মুঘল, সুলতানি ও জমিদার আমলের স্মৃতি অমর-অক্ষয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজš§ও জানতে পারবে তাদের ইতিকথা।

দ্য ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড (বিএস) এর জেনারেল সেক্রেটারি রায়হান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘সখিনা বিবির সমাধিকে কেন্দ্র করে পর্যটন স্পট বিকাশে যে প্রতিবন্ধকতা-প্রতিকূলতা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা দূর-রে শাহওয়াজ বলেন, গৌরীপুরকে সম্ভনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এখানকার ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন ও জমিদার আমলের স্থাপত্যশৈলীগুলোর তালিকা  তৈরি করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বীরাঙ্গনা সখিনার মাজারের উন্নয়ন কাজের জন্যও মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে । বরাদ্দ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বহুমাত্রিক.কম

Walton
Walton